‘জঙ্গি দমনে সিংহভাগ সাফল্য ডিএমপির’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ দমনে সিংহভাগ সাফল্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। জঙ্গিবিরোধী অধিকাংশ অভিযানই ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট করেছে। ডিএমপি বাংলাদেশ পুলিশের দর্পণ।

শনিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্যারেড গ্রাউন্ডে ডিএমপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে একথা বলেন পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

আইজিপি বলেন, ডিএমপি হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের দর্পণ। সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ডিএমপির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্বারা প্রতিফলিত হয়। দেশের প্রতিটি জাতীয় উৎসব উদযাপনে ডিএমপি নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। ডিএমপি তাদের দক্ষতা সফলতা প্রমাণ করেছে। পুলিশ এখন জনবান্ধব,নারী বান্ধব, শিশুবান্ধব। আমি ঢাকা মহানগর পুলিশের সবার সাফল্য কামনা করি। আশা করি, পুলিশ দক্ষতা নিয়ে আগে দায়িত্ব পালন করেছে আগামীতেও একইভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পুলিশ জনগণের ও আপনাদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে বলেই আজ সবাই এ অনুষ্ঠানে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে পুলিশ তৈরি করা সেই পুলিশ আর আগে পুলিশ এক নয়। ডিএমপিকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চলছে, যাতে তারা জনগণের আরও পাশে থাকতে পারে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ডিএমপিকে জনবান্ধব করতে বিট পুলিশিং ও উঠান বৈঠকের মতো কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভাড়াটিয়া নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ঢাকার ৮০ লাখ জনগণের ডাটাবেজে রাখা হয়েছে। ডিএমপি কাউন্টার টোরোরিজম ২০১৭ সালে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক বিধ্বস্ত করেছে। অপরাধ প্রবণতারোধ পেয়েছে। আইপিইউ-সিপিইউ সম্মেলনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ডিএমপির নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। জনবল যানবাহনের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও উন্নত নাগরিক সেবা দিতে ডিএমপি সব সময়ে বদ্ধ পরিকর।

এর আগে শনিবার দুপুরে ডিএমপি হেড কোয়ার্টার্স থেকে র্যালির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাজধানীর কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালি শেষ হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে গিয়ে।

বিকেল সাড়ে ৩ টায় রাজারবাগের প্যারেড গ্রাউন্ডে কেক কেটে ডিএমপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর ডিএমপির গত ১ বছরের সফলতার ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। তুলে ধরা হয় গত ১ বছরে ডিএমপির ভাড়াটিয়া নিবন্ধনসহ কমিউনিটি পুলিশিং, উঠান বৈঠকের মতো সফল উদ্যোগগুলো।

এরপর দেশের বড় পর্দা ও নাটকের অভিনেতা অভিনেত্রীরা একসঙ্গে মঞ্চে গিয়ে ডিএমপিকে অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানান। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। ডিএমপির পুলিশের সেবার বিষয়ে মঞ্চে গিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন তারা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ।

এআর/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :