ধরপাকড় বেশি জামিন কম : কারাগারে দ্বিগুণের বেশি বন্দি

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
ফাইল ছবি

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের ৬৮টি কারাগারে সম্প্রতি বন্দি কয়েদি-হাজতির সংখ্যা বেড়েছে। দু-তিন মাস আগেও কারাগারগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৭২ হাজার বন্দি থাকতো সেখানে গতকাল রোববার তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৬ হাজারে। কারা অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এমন তথ্য জানান।

দেশের ৬৮টি কারাগারে সর্বসাকুল্যে ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৬ হাজার ৬১৪ জন। গতকাল রোববার এ সংখ্যা ছিল ৭৫ হাজার ৮১৪ জন। বন্দিদের মধ্যে পুরুষ ৭৩ হাজার ১৪৯ জন এবং নারী দুই হাজার ৬৬৫ জন।

একাধিক কারাগার সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন মামলায় পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে। পরে তাদের কারাগারগুলোতে পাঠানো হয়। এ কারণে বন্দির সংখ্যা বাড়ছে।

বিশেষ করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রিজন ভ্যান ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করছে।

uzzal-v-01

সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে ডেকে অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম নস্যাৎ করতে এ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কারা কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, সাধারণত কারাগারগুলোতে প্রতিদিন যে সংখ্যক আসামি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে আসে, সমান সংখ্যক আসামি জামিনে মুক্তি পায়। সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার আসামির সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু সে অনুযায়ী জামিন হচ্ছে না। ফলে কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা বাড়ছে।

কারাবন্দিদের সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে কারা অধিদফতরের এআইজি প্রিজন (প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী রোববার সারাদেশে প্রায় ৭৬ হাজার বন্দি ছিল। এ বিষয়ে আর কিছু জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

এমইউ/এমএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :