খেলতে এসে নাইজেরিয়ান ফুটবলারদের প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১২ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

প্রতারণার অভিযোগে রাজধানী থেকে পাঁচ নাইজেরিয়ান ফুটবলার ও দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

রাজধানীর বসুন্ধরা ও খিলখেত লেকসিটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- ওগোখোয়া ওনোচি (৩২), মরিস (৩৪), ওবিনা (৩৫), হ্যানরি ওরফে শর্ট হ্যানরি (২৪), এন্থপ্নি কেজিতো অ্যারেঞ্জি (২৬)।

গ্রেফতার বাংলাদেশিরা হলেন মো. কাউসার আহমেদ ও রাইসুল ইসলাম আসাদ। এ দু’জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই প্রতারণার টাকা সংগ্রহ করতো বিদেশিরা।

এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, নাইজেরিয়ান আসামিদের সবাই ফেনী সকার ক্লাবের ফুটবলার। এরা মোহামেডন ও আবহানীর পক্ষেও ফুটবল খেলেছে। তবে বর্তমানে এরা নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।

তাদের প্রতারণার বিষয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি নাদিরা আক্তার নামে এক চিত্রশিল্পী ইংল্যান্ডের একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ছবি পাঠান। প্রতারকরা নাদিরার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে তাকে ফোন করে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছে বলে জানায়। তারা বলে, মূল্যবান পুরস্কারের ৩ লাখ পাউন্ডের (বাংলাদেশি প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা) পার্সেলটি তার নামে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর কয়েকদিন পর প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয়ে নাদিরাকে ফোন দেয়। পার্সেলটি ছাড়িয়ে নিতে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিতে বলে। পরবর্তী সময়ে নানা কথা বলে আরও ২ লাখ টাকা আদায় করে।

ওই কথিত কর্মকর্তা একদিন তাকে ফোন করে এবং পার্সেল ছাড়িয়ে নিতে অবৈধ উপায় অবলম্বন করার কারণে তিনি ফেঁসে যেতে পারেন বলে ভয়ভীতি দেখান। এভাবে কয়েক দফায় সব মিলে মোট ১ কোটি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করেন।

টাকা পরিশোধের পর থমাস কিং নামে একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নাদিরাকে পার্সেলটি আর পাওয়া যাবে না বলে জানান এবং নানা ধরনের হুমকি দেন। এরপর নাদিরা রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা  করেন।

মোল্লা নজরুল জানান, আসামিদের সবাই প্রতারণার অভিযোগে আগে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছেন। জামিনে বের হয়ে তারা আবারও প্রতারণায় লিপ্ত হন। তাদের পাসপোর্টগুলো ডিবির কাছে জমা আছে বলে জানিয়েছে তারা। আসামিরা ১২টি নামে ১৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার টাকা সংগ্রহ করেছে। সেসব অ্যাকাউন্টধারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করা ওই নারীর প্রসঙ্গে মোল্লা নজরুল বলেন, ওই নারী আসামিদের গার্লফ্রেন্ড কিংবা স্ত্রী হতে পারে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এআর/এমবিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :