বনানীর স্টার গেস্ট হাউজে ধর্ষণ : মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৬ এএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
ফাইল ছবি

জন্মদিনের দাওয়াতে যোগ দিতে গিয়ে বনানীতে দুই তরুণী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছিল বনানী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। গত শনিবার ফের বনানীরই আরেক হোটেলে ধর্ষণের শিকার হবার পর তরুণীর মামলা নিতে গেলে বনানী থানা পুলিশ গড়িমসি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে আইনি সহায়তা দেয়া মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অর্গানাইজেশনের ডাইরেক্টর (ইনভেস্টিগেশন) মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান এ অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, একটি আবাসিক এলাকায় আবাসিক ভবনে হোটেল কী করে হয়? আবার আবাসিক ভবনের ওই হোটেলটি বলা যায় বনানী থানার নাকের ডগায়। সেই হোটেলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে। তরুণী ধর্ষণের অভিযোগ তুলে রোববার দুপুরে মামলা করতে গেলেও মামলা নথিভুক্ত হয় গতকাল (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে। যদিও মামরার এজহারে মামলা নথিভুক্ত করার সময় দেয়া হয় রাত ৮টা ২৫ মিনিট।

তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে থানায় আপোসের চেষ্টা করেছে অভিযুক্তপক্ষ। দুই পরিবারকে নিয়ে থানা পুলিশ বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করে। তবে হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অর্গানাইজেশন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই তরুণী আপোস করতে না চাওয়ায় মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনায় ওই হোটেল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ থাকলেও তাদের কাউকে আটক কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী তরুণীর এক আত্মীয় একই অভিযোগ তুলে জাগো নিউজকে বলেন, আমরা দুপুরে মামলা করতে যাই। কিন্তু মামলা নিতে নানা টালবাহানা চলে। দিন শেষে রাতে মামলা নেয়ার কথা জানায়। এরমধ্যে মূলহোতা রাজিব থানাতেও এসেছিল।

bukul

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বনানী থানা পুলিশ। তাদের দাবি, মামলা যথা সময়ে নেয়া হয়েছে। মামলার বাদীই বরং মামলা করতে দেরি হওয়ার বিষয়টি এজহারে উল্লেখ করেছেন।

এ অভিযোগের ব্যাপারে কোনো মন্তব্যে রাজি না হয়ে বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী জাগো নিউজকে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় আলামত পরীক্ষার জন্য ওই তরুণীকে সোমবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের ৯(৩) ধারায় দায়েরকৃত মামলাটি তদন্ত করছেন থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বোরহান উদ্দিন রানা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রথমে আমরা অভিযুক্ত রাজিব আহমেদ (২৮) ও রুবেল হোসেনকে (২৭) আটক করি। এরপর রাতে তাদের কথায় প্রাথমিক সত্যতা পাবার পর মামলা গ্রহণ করি। জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছরের ২৮ মার্চ দ্য রেইন ট্রি হোটেলের ওই ঘটনায় একই বছরের ৬ মে বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ধর্ষণ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ, শাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি নিম্ন আদালতে বিচারাধীন এবং সকল আসামি কারাগারে রয়েছেন।

এরপর একই বছরের ৪ জুলাই রাতে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে বনানীর বাসায় ইভান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন এক তরুণী। পরদিন ৫ জুলাই বনানী থানায় বাহাউদ্দিন ইভানকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন তিনি। ৬ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জ থেকে ইভানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

জেইউ/এমবিআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :