চা থেকে হবে চকলেট-কেক-বিস্কুট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৮ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৫:১৫ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

চীনের মতো বাংলাদেশেও চা থেকে চকলেট, বিভিন্ন পানীয়, কেক, বিস্কুট ইত্যাদি প্রস্তুত করা হবে। কারণ একসঙ্গে চা নিয়ে গবেষণা করবে বাংলাদেশ ও চীন। এজন্য বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে টি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, চাইনিজ একাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সাইন্স-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ এমওইউ সই হয়। এতে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ আলী ও টি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, চাইনিজ একাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সাইন্স-এর পরিচালক ইয়াজুন ইয়াং স্বাক্ষর করেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সঙ্গে টি রিসার্স ইনস্টিটিউট, চাইনিজ একাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সাইন্স-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক হওয়ায় এর মাধ্যমে দেশের চা গবেষকরা আরও সমৃদ্ধশালী হবেন। আমরা চা নিয়ে জাতীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপনীত হবে এ এমওইউ সইয়ের মাধ্যমে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জাতের এবং ধরনের চা চীনে প্রস্তুত হয়ে থাকে। ফলে এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের চার উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। এ চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমৃদ্ধ হবে।

আরও জানানো হয়, চা থেকে চীনে চকলেট বিভিন্ন পানীয়, কেক, বিস্কুট ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এসব পণ্য উৎপাদন করা যাবে। এতে অভ্যন্তরীণ চা বাজারের সম্প্রসারণ ঘটবে এবং বিদেশে চা জাত পণ্যের রফতানির সুযোগ তৈরি হবে।

এছাড়া সংকর জাতের চা গাছ উদ্ভাবন, চায়ের পোকামাকড় দমনের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন, চা তৈরি, চায়ের প্রাণ রসায়ন, চায়ের গুণগতমান উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং চা অর্থনীতির ওপর উভয় (বাংলাদেশ-চীন) পক্ষের মধ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় চাবিষয়ক প্রযুক্তি বিনিময় হবে। উভয় দেশের চার বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে কনফারেন্স, সেমিনার ও মতবিনিময় সভা হবে। চাবিষয়ক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ইত্যাদি কার্যক্রম শুরু হবে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ১০ মিলিয়ন কেজি চাল উৎপাদন হয়েছিল জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আমরা রফতানি করেছি ৭ মিলিয়ন কেজি। আর এবার আমাদের উৎপাদন হয়েছে ৮০ মিলিয়ন কেজি, কিন্তু আমরা তেমন একটা রফতানি করতে পারব না। ২০১৫ সালে চা আমদানি করেছিলাম ১০ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন কেজি, আবার ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চা আমদানি কমেছে। ২০১৬ সালে চা আমদানি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন কেজি, ২০১৭ সালে হয়েছে ৬ মিলিয়ন কেজি।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের উৎপাদন দিয়ে চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছি। ২০১৫ সালে দেশে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছিল ৭৭ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন কেজি, ২০১৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮১ দশমিক ৬ মিলিয়ন কেজি, ২০১৭ সালে অভ্যন্তরীণ চাহিদা দাড়ায় ৮৫ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন কেজি।’

‘আমাদের এবার উৎপাদন হয়েছে ৮০ মিলিয়ন, চাহিদা ৮৫ মিলিয়ন। ৫ মিলিয়ন শর্ট। তারপরও চলতি অর্থবছরের গত বছরে (২০১৭) আমরা ২ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন রফতানি করেছি।’

এখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের চায়ের চাহিদা বেড়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

আরএমএম/জেএইচ/আইআই