৮ ফেব্রুয়ারি ফোবিয়ায় কাঁপছে দেশ

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫১ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৬:৫৯ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
ফাইল ছবি

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা বলছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলই। আইনকে শ্রদ্ধা জানিয়েই ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে দল দু’টির নেতারা মুখে বলছেন। রাজপথে আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচিও ঘোষণা করেনি আওয়ামী লীগ-বিএনপি। তবুও আতঙ্কের ছায়া ঘিরে ফেলছে জাতিকে। ‘৮ ফেব্রুয়ারি’ ফোবিয়ায় (অস্বাভাবিক ভীতি) কাঁপছে দেশ।

একটি মামলা। একটি রায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার খানিক অবসানও বটে। আর বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনাও যেন। অথচ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনীতির মাঠ আবারও উত্তপ্ত। যুদ্ধাংদেহী অবস্থান নিয়ে নানা ঘোষণা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতারা। মাঠ দখলের প্রস্তুতিও চলছে উভয় শিবিরে।

কী হবে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ে? রায় খালেদা জিয়ার বিপক্ষে গেলে বিএনপির অবস্থান কি হবে? পক্ষে গেলে সরকারি দল আওয়ামী লীগের অবস্থান কি হবে? নির্বাচনের বছরে এমন একটি রায়ে ফের জ্বালাও-পোড়াওয়ের আন্দোলন শুরু হয় কি না- এমন সব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। জল্পনা, কল্পনা আর নানা গুঞ্জন এখন রাজনীতি ও রাজনীতির বাইরে, যার কেন্দ্রে প্রকাশ পাচ্ছে আতঙ্কের দাবানল।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও রাজপথ দখলের কথা শোনাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে থাকবে দলটির নেতাকর্মীরা। অপরদিকে রায় বিপক্ষে গেলে ঢাকাকে অচল করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে বিএনপি।
খবর বেরিয়েছে, প্রকাশ্যে-গোপনে মিটিংও করছে দু’দলের নেতারা। জমায়েত করা আর জমায়েত ঠেকানোর জন্য প্রায় মারমুখী অবস্থানে দল দু’টি।

৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার এ রায়কে ঘিরে বিশেষ সতর্ক অবস্থার কথা বলছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও। ৮ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ প্রশাসন, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

রায়কে ঘিরে দু’দলের অবস্থান এবং পুলিশের সতর্ক অবস্থা যেন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জনমনে। আতঙ্ক নিয়ে নানা কথা মিলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। নাসিমা আখতার নামে একজন তার ফেসবুক দেয়ালে লিখেছেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় আমেরিকা যাওয়ার ফ্লাইট। বের হব দুপুরের আগেই। রায়ের আগে বিমানবন্দরে না পৌঁছাতে পারলে আটকা পড়তে পারি। আর এখন পরিবহন তো সরকারও বন্ধ করে দেয়।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর কাছে জানতে চাওয়া হয় ৮ ফেব্রুয়ারি প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রায় দেখব, এরপর আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধানের পক্ষে আমরা। সরকারই পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রায় তো সরকারের কথাতেই হচ্ছে, নইলে আগাম অবস্থান নেবে কেন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে। সরকার শত শত নেতাকর্মীকে আটক করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। সময় বুঝেই সরকারের সব কর্মকাণ্ডের জবাব দেয়া হবে বলে জানান শামসুজ্জামান দুদু।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি আইন এবং আদালতের বিষয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে বিএনপি এ রায় নিয়ে এহেন রাজনীতি করত না। খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার পক্ষে দেশ সেরা আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ বিএনপিকে প্রতিহত করার কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি উল্লেখ তিনি বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বিএনপি যদি এ রায়কে কেন্দ্র করে নোংরা রাজনীতি করতে চায়, তাহলে রাজনৈতিকভাবেই তা মোকাবেলা করবে আওয়ামী লীগ।

এএসএস/ওআর/এমএস