বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়ম রোধে সরকার ব্যর্থ : টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৬ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০২:২০ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি খাতে বাইরে বিস্তৃত হয়েছে বেসরকারি খাতেও। কিন্তু কোনো আইন না থাকায় ও সরকারের উদাসীনতায় নিয়ন্ত্রণ নেই এই খাতে। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মরোধে সরকার ব্যর্থ বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল।

বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ মাইডাস সেন্টারে ‘বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হওয়া স্বত্ত্বেও এখানে নেই সরকারের যথাযথ মনোযোগ। আইন প্রণয়নে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। অংশীজনের কাছ থেকে আইনপ্রণয়নে সাড়াও মিলছে না। স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবের কারণে এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রণয়ন হয়নি আইন। আর আইন না থাকায় গড়ে উঠেনি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো। পরিদর্শন ও তদারকিতে রয়েছে ঘাটতি।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থার কারণে ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠানে সেবাগ্রহীতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে, বিধি-বহির্ভূতভাবে সুযোগ-সুবিধা আদায়ের পথ তৈরি হয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সক্ষমতা ঘাটতি ও অনিয়মের প্রবণতা বিশেষ লক্ষ্যনীয়। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়টি হচ্ছে এখাতে সেবার চেয়ে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট। মুনাফাকেন্দ্রীক সেবা কার্যক্রম, কমিশন ভিত্তিক সেবা ব্যবস্থা, গুণগত মানের চেয়ে সংখ্যাগত বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সার্বিকভাবে এই খাতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা এক রকম জিম্মিদশার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাপকভাবে আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে, মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবো নিশ্চিত হচ্ছে না।

‘বেসরকারি চিকিৎসাসেবা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিতে কাজ করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন।

ঢাকার ২৬টি ও ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ব্যক্তি মালিকানাধীন ৯০টি নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের উপর ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সেবা কার্যক্রম, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় মোট ৭০৬ জনের তথ্যদাতার তথ্য নেয়া হয়।

জেইউ/এমবিআর/আরআইপি/জেআইএম