সুন্দরবনের ওপর অত্যাচার চলছে : আবুল মকসুদ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:২৮ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিশিষ্ট লেখক-প্রাবন্ধিক ও বাপার সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, সুন্দরবনের ওপর যে অত্যাচার চলছে তা খুবই দুঃখজনক। সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এটি কেবল বাংলাদেশের নয় বিশ্ববাসীর সম্পদ, এর ক্ষতি করার কোনো অধিকারই আমাদের নেই। বরং একে রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য।

সুন্দরবন দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক সমাবেশে তিনি একথা বলেন। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনসহ (বাপা) ৫৭টি সংগঠনের উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়। ‘সুন্দরবনবিষয়ক ইউনেস্কোর প্রস্তাব সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করো, বনবিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র অবিলম্বে বাতিল করো, সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর সব কার্যক্রম বন্ধ করো, বন রক্ষায় উদ্যোগ নাও’ দাবিতে এই নাগরিক সমাবেশ হয়েছে।

সমাবেশে আবুল মকসুদ বলেন, সরকারের উচিত ছিল সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম কেউ গ্রহণ করলেও তাতে বাধা দেয়া। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি, একে রক্ষা ও সংরক্ষণের পরিবর্তে সরকারি উদ্যোগে ও অনুমোদনে বনবিনাশী অনেক শিল্প কল-কারখানা গড়ে উঠাসহ রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো পরিবেশ বিনষ্টকারী প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে সেখানে।

এতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পরিবেশ ও বনবিনাশী কার্যক্রম বন্ধ না হলে অতি দ্রুতই সুন্দরবন বড় বিপর্যয়ের দারপান্তে চলে যাবে। তাই সুন্দরবন বিনাশী সব কার্যক্রম ও পদক্ষেপ বাতিল করে একে রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন। বাপার যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী বিডি রহমতুল্লাহ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. মো. জিয়াউর রহমান, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেন, ঢাকা ইয়ুথ ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মহাজন প্রমুখ।

সমাবেশে সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস্ মুভমেন্টের নির্বাহী প্রধান অ্যাডভোকেট মো. মোজাহেদুল ইসলাম মুজাহিদ, বাপার জাতীয় পরিষদ সদস্য নাজিম উদ্দিন, গ্রীন ভয়েসের আব্দুস সামাদ প্রধান ও আব্দুস সাত্তার-সহ আয়োজক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। এছাড়া বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি র্যালি বের হয়।

এফএইচএস/জেডএ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :