যৌতুকের দাবিতে রাজিয়াকে হত্যা : দাবি স্বজনদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৩৬ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
যৌতুকের দাবিতে রাজিয়াকে হত্যা : দাবি স্বজনদের

এক বছর আগে পারিবারিক পছন্দে বিয়ে হয় রাজিয়ার। এরপর সংসারও চলছিল। তবে ছেলে পক্ষের দাবি ছিল যৌতুকের। দাবি ছিল ঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়ে নেয়ার জন্য যাবতীয় খরচও দিতে হবে মেয়ে পক্ষকে। গার্মেন্টে চাকরি করা বাবা ইকবাল দাবিকৃত টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকাও দেন। বিয়ের অনুষ্ঠানও ঠিক হয়। দেন অনুষ্ঠানের খরচও। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানের আগেই বাবার কানে আসে মেয়ের মৃত্যুর খবর।

বুধবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ানে শ্বশুরবাড়ি থেকে নববধূ রাজিয়া সুলতানার (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় খিলগাঁও থানায় ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা করেন মেয়ের বাবা ইকবাল হোসেন। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ আনেন ছেলে পক্ষের বিরুদ্ধে। মামলায় জামাতা, শ্বশুর ও জামাতার বন্ধুর যোগসাজশে হত্যা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলার পর নিহতের স্বামী আবির বিন আমির (মুন) ও তার বন্ধু অমিত সাহাকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র এএসপি আমির হোসেন পাটোয়ারীর পুত্রবধূ রাজিয়া সুলতানার (১৯) মৃত্যুকে ‘রহস্যজনক’ বলছেন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে রাজিয়ার ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘রাজিয়ার মৃত্যু রহস্যজনক।’

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের অংশ হিসেবে রাজিয়ার গলা থেকে টিসু ও ভিসেরা (যকৃৎ, কিডনি, পাকস্থলী ও পাকস্থলীতে থাকা খাবারের নমুনা) সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহ করা টিসু ও ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

নিহতের চাচা আলমগীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, পারিবারিক পছন্দে বছরখানেক আগে তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে ঘরে উঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। আগামী ২১, ২২ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল অনুষ্ঠানের তারিখ। সে জন্য উভয়পক্ষ দাওয়াত কার্ডও দিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীদের। এরই মধ্যে বুধবার মাগরিবের নামাজের সময় মৃত্যুর খবর পাই।

তিনি বলেন, ওরা (ছেলে পক্ষ) ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করেছিল। আমরা ৩ লাখ দিতে পেরেছিলাম। মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের আগেই সে টাকা দিয়েছি। খিলগাঁওয়ে হোয়াইট হাউজ নামে একটি রেস্টুরেন্টে বিয়ের খরচা বাবদ আরও এক লাখ টাকা ওদের দিতে হয়েছে। কিন্তু ওরা এরপরেও আমাদের মেয়েটাকে খুন করলো।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, ওরা পুরো ৫ লাখ টাকাই চাচ্ছিল। টাকা না পেয়ে ওরা নির্যাতন করে আমাদের মেয়েকে রশিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে।

মেয়ের বাবা ইকবাল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ের সুখের জন্য কতো কষ্ট করে টাকা দিয়েছি। অনেক ঘটনাই ঘটেছে। এতো কিছুর পরও মেয়ের সুখের জন্য সব সয়ে গেছি। টাকার জন্যই ওরা রাজিয়াকে হত্যা করেছে।

মেয়ের শ্বশুর পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র এএসপি আমির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, হত্যার প্রশ্নেই আসে না। ছেলের বউকে হত্যা কেন করবো? কেনই বা যৌতুক চাইবো? ভ্রান্ত ধারণা থেকে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

খিলগাঁও থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা ঝুলন্ত অবস্থায় ওই মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। বৃহস্পতিবার মেয়ের বাবা ও আত্মীয়-স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়ার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রাজানগরে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে আত্মহত্যা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আসল কারণ জানা যাবে। মামলার প্রেক্ষিতে ঘটনা সম্পর্কে জানতে নিহতের স্বামী ও স্বামীর বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জেইউ/এআরএস/আইআই