সেলফি দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৪২ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

‘আপনারা এবার ব্যানার গুটিয়ে ফেলুন প্লিজ, পেছনের ব্যানার দেখা যাচ্ছে না। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো মানুষের লাইন পলাশীর মোড় পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। আপনারা সেলফি ও ফটো তুলতে এতো সময় নেয়ায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ হচ্ছে।’

বুধবার বেলা পৌনে ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মাইকযোগে ঘোষক এ অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। কিন্তু কে শুনে কার কথা। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগত হাজারো মানুষ রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত লম্বা লাইনে থাকলেও পিঁপড়া গতিতে সামনে এগুচ্ছিল।

Selfy-1

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের ঢল নেমেছে শহীদ মিনারগামী রাস্তায়। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে মঙ্গলবার রাত থেকেই শহীদ মিনারের বিভিন্ন প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়া হয়। পলাশী মোড় থেকে সোজা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে সবাই শহীদ মিনারে যাচ্ছিলেন।

Selfy-2

ছোট-বড় ফুলের তোড়া হাতে কেউবা একগুচ্ছ ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে রওনা হন। কিন্তু যাওয়ার পথে বার বার থেমে থেমে নিজেদের ব্যানারসহ ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত থাকায় লাইন সামনে এগুতে দেরি হয়। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে রীতিমতো সেলফি তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্বেচ্ছাসেবকরা কেউ কিছু বললেও তারা ক্ষেপে যাচ্ছিলেন। শুধু নেতাকর্মীরাই নন, মূল বেদিতে দায়িত্বরত স্কাউট সদস্যদেরও ফুলে ফুলে আচ্ছাদিত শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে দেখা যায়।

Selfy-3

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা হাসমত আলী বলেন, এক সময় মানুষ সত্যিকার অর্থেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নগ্ন পায়ে একুশের প্রথম প্রহরে ছুটে আসতেন। ভাবগম্ভীর পরিবেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতেন। কিন্তু এখন সব কিছু মেকি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের চেয়ে ফটো তোলায় ব্যস্ত সবাই।

এমইউ/জেএইচ/পিআর