হর্ন বন্ধে যুবকদের ৫০০ কি.মি. পথ স্কেটিং

আবু সালেহ সায়াদাত
আবু সালেহ সায়াদাত আবু সালেহ সায়াদাত , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৯ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

একদল সচেতন তরুণ। শুধু তারাই সচেতন নয়, সচেতন করতে চায় অন্য সবাইকেই। এ লক্ষ্যেই তাদের সচেতনমূলক স্কেটিং র‍্যালি। ১৫ জন তরুণের একটি দল, ৫০০ কিলোমিটার রাস্তায় স্কেটিং করবে। ৯ দিনে ৫ জেলাব্যাপী 'শব্দ দূষণকে না বলুন' এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অন্যদের সচেতন করতে বের হয়েছে এই তরুণদের দল।

প্রতিদিন প্রায় ৫০/৬০ কিলোমিটার রাস্তা স্কেটিং করার সময় শব্দ দূষণের সচেতনতা নিয়ে পথিমধ্যে লিফলেট, স্টিকার বিতরণ করা ছাড়াও, স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ ও যুব সমাজকে সচেতন করবে তারা।

ঢাকা হতে কক্সবাজার টেকনাফ ৫০০ কিলোমিটার স্কেটিং র‍্যালির আয়োজন করেছে সার্চ স্কেটিং ক্লাব। তাদের এমন ভিন্নধর্মী সচেতনতামূলক র‍্যালির বিষয়ে আলাপ হয় ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক আরাফাত আলমের সঙ্গে।

jagonews24

তিনি বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন এবং উচ্চ শব্দযুক্ত হর্ন ব্যবহার এখনও বন্ধ হয়নি, সাধারণ মানুষ শব্দ দূষণের আক্রমণ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। হাইড্রোলিক হর্ন এবং উচ্চ শব্দযুক্ত হর্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট যে আদেশ প্রদান করেছে সে বিষয়ে বিআরটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি আরও কঠোর হয় তাহলে শব্দ দূষণের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি আমাদের সবাইকেই সচেতন হতে হবে। সেই সচেতনতা তৈরি করতেই আমাদের এই আয়োজন।

নিজেদের এমন কর্মসূচি সম্পর্কে জানাতে আরাফাত আলম বলেন, শুক্রবার আমাদের ১৫ জনের স্কেটারের একটি দল পাঁচ জেলাব্যাপী সচেতনতামূলক স্কেটিং র‍্যারি ঢাকা হতে কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত ৫০০ কিলোমিটার রাস্তা ৯ দিন ব্যাপী স্কেটিং র‍্যালিতে আমরা অংশ নিয়েছি।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে তাদের এ স্কেটিং র‍্যালি শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ১ম দিনে আমাদের রুট ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব, মতিঝিল, ইত্তেফাক মোড়, টিকাটুলি, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, কাঁচপুর হয়ে দাউদকান্দি।

একইভাবে ২য় দিনে কুমিল্লা, ৩য় দিনে ফেনী, ৪র্থ দিনে সীতাকুণ্ড, ৫ম দিনে চট্টগ্রাম, ৬ষ্ঠ দিনে সাতকানিয়া, ৭ম দিনে চকোরিয়া, ৮ম দিনে কক্সবাজার শিহরে পৌঁছাব এবং ৯ম দিনে টেকনাফে স্কেটিং র‍্যালি সমাপ্ত হবে।

তাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী সচেতনতামূলক স্কেটিং র‍্যালির মাধ্যমে সার্চ স্কেটিং ক্লাবের পক্ষ থেকে শব্দ দূষণ প্রতিরোধে বেশ কিছু দাবিও তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে জেলাতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত রাখা।

সরকারি উদ্যোগে ব্যাক্তি মালিকানা, গাড়ি মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি তাদের প্রত্যেকের গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার নিষেধ, সংবলিত স্টিকার বাধ্যতামূলক লাগাতে হবে।

এএস/এমআরএম

আপনার মতামত লিখুন :