বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন জমিলা

ঢামেক প্রতিবেদক
ঢামেক প্রতিবেদক ঢামেক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ১২ মার্চ ২০১৮

সারাদিন এই ঘর ওই ঘর থেকে দু’মুঠো খাবারের সন্ধানে ভিক্ষা করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে রাতে ঘরে ফিরে নাতি মজনুকে (১০) নিয়ে প্রশান্তির ঘুমে মগ্ন ছিলেন বৃদ্ধা জমিলা খাতুন (৬৩)। ভোর রাতে চারদিকের মানুষের চিৎকার আর চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে তার। ততক্ষণে চোখ মেলে দেখেন চারদিকের বাড়িঘর পুড়ে আগুনের কুণ্ডলী আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছে।

দ্বিগবিদিক না ভেবে দ্রুত ঘরের কাঁথা বালিশসহ অর্ধেক জিনিসপত্র আর নাতিকে নিয়ে রেখে আসেন আগুন থেকে একটু দূরে। তারপর আবার আসেন বাকি জিনিস নেয়ার জন্য। সেগুলোর জন্য ঘরে ঢুকেও ছিলেন জমিলা। কিন্তু ঘর থেকে বের হতেই তার পরনের কাপড়ে চারদিক থেকে আগুন ধরে যায়, জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর নিজেকে আবিষ্কার করেন কয়েকজন চিকিৎসকের মাঝে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগের ১০৫ নম্বর রুমে চিকিৎসাধীন জমিলা খাতুন কথাগুলো বলছেন আর বারবার আগুনের ভয়াবহতায় মুর্ছা যাচ্ছেন। ব্যাথায় কাতর এ বৃদ্ধার দু'চোখের অশ্রুজল যেন নিষ্ঠুরতার আবরণে জড়িয়ে গেছে বহু আগে। বিছানায় এপাশ ওপাশ করছেন বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে।

শেরপুরের কৈয়তপুর নামের একটি গ্রামে থাকতেন বৃদ্ধা জমিলা খাতুন। স্বামীর নাম মৃত মজিবর। তিনবছর আগে অসহায় এ বৃদ্ধা সাত বছরের নাতি মজনুকে নিয়ে ঠাঁই নিয়েছিলেন মিরপুরের ইলিয়াস মোল্লা বস্তির একটি ঝুপড়ি ঘরে। সারাদিন ভিক্ষা করে যা পেতেন তাই নিয়ে জীবন চলতো নানী-নাতি দু’জনের। কিন্তু সোমবার দিবাগত ভোর রাতের অগ্নিকাণ্ডে বেঁচে থাকার স্বপ্নগুলো দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে এ বৃদ্ধার।

আহত জমিলা বারবার বলছেন তার আদরের নাতি কোথায়? তাকে খুঁজে দেয়ার জন্য সবার কাছে আকুতি তার। নাতি কেমন আছে তা জানতে চান বারবার নার্সদের কাছে। নাতিকে হাসপাতালের চারদেয়ালের মাঝে খুঁজতে খুঁজতে তার অশ্রুহীন ব্যাথাতুর নয়ন এখন বেশ ক্লান্ত।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বৃদ্ধা জমিলা খাতুনের শরীর প্রায় ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তার সুস্থতায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. শংকর পাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘তার শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ বার্ন হয়েছে। এ ধরনের রোগীকে বাঁচানো খুব ক্রিটিক্যাল। তবুও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি’।

সাদ্দাম হোসাইন/এমএমজেড/জেআইএম