মানবসেবাই ছিল পিয়াস রায়ের লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৪ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তে নিহত পিয়াস রায়ের লক্ষ্যই ছিল মানুষের সেবা করা। সে কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়ে ডাক্তার হতে ভর্তি হয়েছিলেন মেডিকেলে। সেই সঙ্গে যুক্ত হন বিভিন্ন মানবসেবী সংগঠনে।

বুধবার বারিধারায় অবস্থিত ইউ এস বাংলার অফিসে এসে পিয়াস রায়ের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি জানান, পিয়াস রায় তাদের একমাত্র ছেলে। সে ঘুরতে ভালোবাসত। তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের সেবা করা। এ কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়ে গোপালগঞ্জের সাহেরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়। গত ৫ মার্চ তার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর ঘুরতে নেপালের উদ্দেশে রওনা হন।

সুখেন্দু রায় জানান, তিনি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পিয়াসের মা পূর্ণিমা রায়ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারা বরিশালের গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পিয়াসের একমাত্র বোন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। পিয়াসের মা বলেন, সংবাদে শুনেছি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আমার ছেলে মারা গেছে। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে ওর মা শয্যাশায়ী। আমি হাই প্রেশারের রোগী। আমার ছেলে বরিশাল বোর্ড থেকে প্রথম হয়। অনেক আশা নিয়ে ওকে মেডিকেলে ভর্তি করি। এখন সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। পিয়াস প্রায় ডাক্তার হয়ে গিয়েছিল, শুধু ইন্টার্নি বাকি ছিল।

তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পারি স্বজনদের নেপাল নিয়ে যাওয়া হবে। সেই হিসেবে আমার এক আত্মীয়কে এখানে পাঠাই। কিন্তু পাসপোর্ট না থাকার কারণে তাকে নেয়া হয়নি। আমার একটি পাসপোর্ট ছিল তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন এখানে এসেছি আমরা কি করতে পারি তা জানতে। আমাদের নেপালে যেতে হবে কিনা, নেপালে যেতে হলে কি করতে হবে তা জানতে এসেছি।

বিষয়টি নিয়ে ইউএস-বাংলার জিএম কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে একজন স্বজন এসেছিলেন। তাদের পরিবারের কারও কোন পাসপোর্ট নেই। আমরা নিজ খরচে তাদের পাসপোর্ট করিয়ে নেপাল নিয়ে যাব।

এমএএস/ওআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :