জীবনের প্রথম ফ্লাইটেই প্রাণ গেল নুরুজ্জামানের

মামুন আব্দুল্লাহ
প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৮

নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তে রানার অটোমোবাইলসের তিনকর্মী প্রাণ হারান। এদের মধ্যে ছিলেন জুনিয়র অ্যাসিসটেন্ট ফোরম্যান নুরুজ্জামান বাবু। এ প্রতিষ্ঠানে ১৬ বছরেরও বেশি কাজ করেছেন তিনি। কখনোই বিদেশ যাওয়ার সুযোগ হয়নি। এবার নেপাল যাওয়ার সুযোগ পেয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাসিত ছিলেন তিনি। কিন্তু এ উচ্ছ্বাস যে কাল হয়ে দাঁড়াবে সেটা কে জানতো।

নুরুজ্জামানের সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের আরও দুই কর্মকর্তা। এর মধ্যে রানার অটোমোবাইলসের হেড অফ সার্ভিস ও সিনিয়র ম্যানেজার (কাস্টমার কেয়ার) এস এম মাহমুদুর রহমান ও অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার মো. মতিউর রহমান। একই প্রতিষ্ঠানের তিনজন সহকর্মীকে হারিয়ে হতবাক সবাই। নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় এই প্রতিষ্ঠানের হেড অফিসে গিয়ে সহকর্মীদের মনকষ্টের কথা জানা যায়।

এ তিনজনের সঙ্গেই নিবিড়ভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজার (সার্ভিস) সাকিবুর রহমান বলেন, এই তিনজনই ছিল আমার খুব কাছের। এর মধ্যে নুরুজ্জামান বাবু ছিল ১২ বছরের সহকর্মী। সে প্রচুর গান শুনতো, গানের গলাও ছিল বেশ। তার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল মিশুক স্বভাবের। কাজে ছিল সুদক্ষ।

তিনি বলেন, আগের দিনেও সে নেপাল যাওয়ার কথা জানতো না। জানার পরই সে বলেছিল, এতদিন পর অফিস আমার দিকে তাকিয়েছে। প্রথম বিদেশ সফর হচ্ছে বিধায় সে ছিল দারুণ উচ্ছ্বাসিত। তার ভাষায়, এস এম মাহমুদুর রহমান ছিলেন একজন কাজ পাগল মানুষ। সকাল ৮টায় শুরু করে রাত অবদি কাজ করতেন। তার লিডিং ক্যাপাসিটি ছিল অন্যরকম। কখনোই বিরক্ত হতে না। আমাদের মতো জুনিয়র সহকর্মীদের কাছে কখনোই মনে হতো না তিনি বস। সব সময় কলিগ বা ভাইয়ের মতো আচরণ করতেন। অন্যদিকে মতিউর রহমান সম্পর্কে সাকিবুর বলেন, তাকে (মতিউর) কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতে শুনিনি। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন একেবারেই ভদ্র ও নম্র। সব সময় হাসি মুখে কথা বলতো। সবাইকে সহযোগিতা করতো।

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর (এইচআর) রুদাবা তাজিন জাগো নিউজকে বলেন, তিনজনই ছিল তাদের জায়গায় বেস্ট। সম্প্রতি আমরা নেপালে মোটরসাইকেল রফতানি শুরু করেছি। এ তিনজন নেপালে আমাদের পণ্য রফতানি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে অফিসিয়াল কাজে যাচ্ছিলেন। কাজের প্রতি তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠাবান হওয়ার কারণেই তাদেরকে নেপালে পাঠিয়েছিলাম। কাজ নিয়ে তারা
কখনো অনিহা করেনি। আমরা প্রমিসিং, ইয়াং, এনার্জিটিং ও নেতৃত্বের কোয়ালিটি সম্পন্ন তিনজন অভিজ্ঞ এবং দক্ষকর্মী হারিয়েছি।

জানা গেছে, এস এম মাহমুদুর রহমানের (৩৫) বাড়ি ফরিদপুরে। বাবা-মায়ের বড় ছেলে। স্ত্রী নিয়ে নিকুঞ্জ-২ তে থাকতেন। মতিউর রহমানের (৩০) গ্রামের বাড়ি ফেনী। একে বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। রাজধানীর বনশ্রীতে থাকতেন তিনি। নুরুজ্জামান বাবুর (৪০) গ্রামের বাড়ি ছিল পাবনার ঈশ্বরদী। ঢাকার মিরপুরের দিয়াবাড়ি বটতলা এলাকায় স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে থাকতেন।

১৭ মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটেই দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তে রানারের ওই তিন কর্মী প্রাণ হারান। তাদের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে স্বজনসহ রানারের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই নেপাল পৌঁছেছেন।

এমএ/জেএইচ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :