ইউএস-বাংলার গুয়াংজু রুট অনিশ্চিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৩ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮

দেশের শীর্ষ বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা বিশ্বের ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর চীনের গুয়াংজুতে ৩ এপ্রিল থেকে ফ্লাইট শুরুর ঘোষণা দিলেও তা এখন অনিশ্চিত। কবে নাগাদ এ রুটে অপারেশন চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ইউএস-বাংলার কর্মকর্তারা।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটেও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অপারেশন অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ করে দেয়া হয়। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-সিইও ইমরান আসিফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, গুয়াংজু রুট চালুর ঘোষণা দেয়ার পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় দুই পাইলট, দুই কেবিন ক্রু এবং ২৩ বাংলাদেশিসহ মোট ৫২ জন যাত্রী নিহত হন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির সিডিউল ওলট-পালট হয়ে যায়।

ইমরান আসিফ জানান, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে গুয়াংজু রুট চালু করা যায়। এ জন্য প্রাক প্রস্তুতি হিসেবে গ্রান্ড ওয়ার্কগুলো করছি, টেকনিক্যাল কাজগুলো চলছে। তবে মে মাসের আগে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট চালুর কোনো সম্ভাবনা নেই।

এয়ারলাইন্সটির বহরে মোট আটটি উড়োজাহাজ ছিল। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় একটি উড়োজাহাজ হারায় এয়ারলাইন্সটি। বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ ও চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ। ১৩ ফেব্রুয়ারি অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ৭৬ আসনের ড্যাশ৮-কিউ৪০০ সংযোজিত করে এয়ারলাইন্সটি। এ বছরের মধ্যেই এয়ারলাইন্সটি আরও তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০, তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং দু’টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে বলে জানান ইমরান আসিফ।

উল্লেখ্য, নেপালে দুর্ঘটনায় একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনেকাংশে হোঁচট খায়। যাত্রা শুরুর দুই বছরের মধ্যে ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা শুরুর পর এক বছরের মধ্যই কাঠমান্ডু ছাড়াও ঢাকা থেকে কলকাতা, মাস্কাট, দোহা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে সংস্থাটি।

আরএম/জেএইচ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :