নারীদের উন্নয়নে জেন্ডার বাজেট প্রণয়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৭ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮

সরকারি জনসেবায় দরিদ্র নারীদের প্রবেশগম্যতাকে তাদের উন্নয়নের একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জনসেবার পরিকল্পনা এবং বিতরণ পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেই বললেই চলে। সবকিছু বিবেচনা করে নারীদের কার্যকরী অংশগ্রহণের মাধ্যমে জেন্ডার বাজেট প্রনয়নের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত 'ইনক্লুসিভ অ্যান্ড জেন্ডার রেসপন্সসিভ পাবলিক সার্ভিস' শীর্ষক সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়।
সেমিনারটির আয়োজন করে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ। সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ আরবান ফোরাম, কেয়ার, খ্রিস্টান এইড, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৪.৭১ শতাংশ। যা ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ছিল ৬.০২ শতাংশ। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেয়া মান থেকে এখনও আমাদের বরাদ্দ ৫ শতাংশ কম। এখনও স্বাস্থ্যখাতে আমাদের বছরে মাথাপিছু গড় বরাদ্দ ২৭ ডলার। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এমিয়ার জন্য নির্ধারিত মাথাপিছু গড় বরাদ্দের চেয়ে ২৫% কম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষ পেশাজীবী ও ডাক্তারের স্বল্পতা, ডাক্তার-নার্সের নিম্ন অনুপাত। এই সার্বিক দুরাবস্থার শিকার হচ্ছেন প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী।

ঢাকা শহরে 'সেইফ সিটি' নামে পরিচালিত এক গবেষণার উল্লেখ করে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৮৪ শতাংশ নারীই জানিয়েছেন, রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সেবা অনিরাপদ। গবেষণায় নারীরা যে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাও উঠে এসেছে।

বক্তারা বলেন, জনসেবা পরিকল্পনা এবং বিতরণ পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিকদেরও অংশগ্রহন খুবই সীমিত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নেই বললেই চলে। অন্যদিকে গণসেবার বেসরকারিকরণ নাগরিকদেরও ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বাজেটে বরাদ্দ কমানোয় এর ভূক্তভোগী হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

তারা বলেন, নগরকেন্দ্রগুলোতে একদিকে নারীরা জনসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যেমন যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে নিরাপদ জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ কমছে। নারীদের প্রাত্যাহিক ও জাতীয় জীবনের চাহিদা পূরণে অনেক দূর যেতে হবে।

সেমিনারে জনবান্ধব গণসেবা কাঠামো প্রণয়নে বেশ কিছু দাবি বিবেচনার আহ্বান জানান বক্তারা। এর মধ্যে রয়েছে- নারীদের কার্যকরী অংশগ্রহণের মাধ্যমে জেন্ডার বাজেট প্রনয়ণ, গণসেবার জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জোরদার, স্থানীয় চাহিদার প্রতিফলন ঘটাতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাকশন এইডের ডেমক্রেটিক গভরনেন্স ম্যানেজার নুজহাত জেবিন।

বক্তব্য রাখেন অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারহান কবির, খ্রিস্টান এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাকিব নাবী, কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ আরবান ফোরামের উপদেষ্টা মোস্তফা কাইউম খান, বিআইপির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট সালমা এ সাফি, ওমেন অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর আতাউর রহমান প্রমুখ।

এএস/এমএমজেড/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :