প্রশ্ন ফাঁসরোধে অভিযোগ অনুযায়ী শাস্তির দৃষ্টান্ত নেই

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৯ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৮
প্রশ্ন ফাঁসরোধে অভিযোগ অনুযায়ী শাস্তির দৃষ্টান্ত নেই

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা পরিচালক রফিকুল হাসান বলেছেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে অনেক আইন থাকলেও যে মাত্রায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সে অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টান্ত নেই।

রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) টিআইবি আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) পক্ষ থেকে ৯টি সুপারিশ করা হয়।

মানববন্ধনে রফিকুল হাসান বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে আইনে অনেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার উল্লেখ থাকলেও যে মাত্রায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সে মাত্রায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অধিকাংশ সময়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিতরণের অভিযোগে শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী পর্যায়ে শাস্তির উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। অথচ প্রশ্ন ফাঁসের মূল হোতারা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থেকে যায়। ফলে প্রশ্ন ফাঁস রোধে তা কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।

এ সময় তিনি টিআইবি ও সনাকের পক্ষে ৯টি সুপারিশ উপস্থান করেন। সুপারিশগুলো হলো- ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ/সংশোধন) আইন-১৯৯২’ এর ৪ ধারা পুনরায় সংশোধন করে শাস্তির মাত্রা আগের মতো সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান প্রণয়ন এবং নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা; কোচিং সেন্টার নিষিদ্ধকরণে সরকারের ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ এর অস্পষ্টতা দূর করা এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করা; প্রশ্নফাঁস রোধ ও সৃজনশীল পদ্ধতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গাইড বইয়ের আদলে প্রকাশিত সহায়ক বই বন্ধে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা; তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে তদারকি বাড়ানো ও প্রচলিত আইনের অধীনে শাস্তি নিশ্চিত করা; ধাপ কমিয়ে প্রশ্ন প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণের কাজটি পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা এবং পরবর্তীতে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা; প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গঠিত যেকোনো তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতিসহ ব্যবস্থাপনাগত যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পর্যাপ্ত সময় এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া; প্রশ্ন ফাঁস রোধে বহুনির্বাচনী প্রশ্নব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা এবং পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন পত্রের একাধিক সেট রাখা।

এমএইচ/এমএমজেড/পিআর