গরিবের ভরসা কাটা তরমুজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩৫ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮

মালিবাগ মোড়। দুপুর দেড়টায় প্রচণ্ড গরমে প্যাডেল ছেড়ে নেমেই তরমুজের দোকানে রিকশাচালক সুরুজ আলী। বয়স বেশি নয় ৪৬। তবুও গরমে যেন তার মুখ শুকিয়ে আসছিল। তরমুজেই যেন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে সুরুজ আলীর। বড় তরমুজের কাটা ছোট্ট এক ফালি মুখে তুলে নিলেন।

গোটা তরমুজ কিনতে মন চায়। সপরিবারে খেলে আরও ভালো লাগতো। কিতা করমু? ৩০০ টাকায় কি আর গোটা তরমুজ কেনা সম্ভব? গরিবের নাগালে নেই তরমুজ। তাই অত টাকায় বড় তরমুজ খেতে না পারলেও ৩০ টাকায় তরমুজের টেস্ট পাচ্ছি, খারাপ কি? শুধু সুরুজ আলীই নয়, নিম্নবিত্তের নাগালের মধ্যে নেই সুস্বাদু তরমুজ।

Tarmuj-7

গ্রীষ্মের এই খরতাপে রসালো, সতেজ আর টাটকা ফল হিসেবে তরমুজের তুলনা নেই। এতে রয়েছে প্রায় ৯২% জলীয় উপাদান যা এই গরমে পানির অভাব পূরণ করতে খুবই কার্যকর। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর ভিটামিন ও মিনারেল বা খনিজ উপাদান। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় তরমুজ শরীরের অভাবনীয় উপকার করে। গরমে শরীরের সতেজতা ও হৃদক্রিয়া গতিশীল রাখতে তরমুজের বিকল্প নেই। কিন্তু দামের কারণে তরমুজ কিনতে গড়িমসি করতে দেখা যায় অনেক ক্রেতাকে।

দৈনিক বাংলার মোড়ে কথা হয় তরমুজ বিক্রেতা মো. লাভলু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে গোটা তরমুজের ক্রেতা নেই বললেই চলে। নিজেও তো খাওয়ার জন্য গোটা তরমুজ কিনি না। বিক্রির জন্যই কিনে এনে কেটে বিক্রি করি।

‘বড় আকারের একটি তরমুজের দাম ৩০০ টাকা। আর ছোট তরমুজ ২০০ টাকা। কাটা তরমুজ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করছি। ক্রেতাও মিলছে বেশ।’

Tarmuj-8

সেখানেই কথা হয় মোটরসাইকেল আরোহী মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সারাদিন অফিসের কাজে মাঠেঘাটে ঘুরছি। গরমে কাহিল দশা। এমন গরমে একটু সতেজতা ফেরাতে তরমুজই ভরসা। কিন্তু গোটা তরমুজ একা খাওয়া যেমন সম্ভব নয়, দাম দেয়াও অসম্ভব। তাই কাটা তরমুজ কিনে খাচ্ছি।’

পল্টন মোড়ের তরমুজ বিক্রেতা নেছার আলী বলেন, অনেকেই গোটা তরমুজ কেনে। তবে তা সন্ধ্যার পর অফিস ছুটি হলে। সারাদিন কাটা তরমুজই বেশি বিক্রি হয়।

জেইউ/ওআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :