তরমুজের দামে খুশি চাষি-ব্যবসায়ী, বেজার ক্রেতা

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা মাসুদ রানা , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪১ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮

দক্ষিণাঞ্চলে এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন পর্যন্ত ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন চাষি। লাভ পাচ্ছেন বেপারি ও আড়তদারও (পাইকার)। তাই এবার তরমুজ নিয়ে চাষী ও ব্যবসায়ীরা এখন পর্যন্ত খুশি। তবে তরমুজের দাম বেশি বলে বেজার ক্রেতা।

মঙ্গলবার যাত্রাবাড়ী আড়ত এলাকায় তরমুজ চাষী, বেপারী ও পাইকার এবং রায়েরবাগ, শনির আখড়াসহ আশপাশের এলাকায় খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

Tormuj-2

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরমুজ আসছে যাত্রাবাড়ী আড়তে। ছাপা (মানুষ বলে বাংলালিংক), অলকিন ও ব্ল্যাক মাস্টার- মূলত এই তিন ধরনের তরমুজ আসছে বলে জানিয়েছেন আড়ৎদার ও চাষিরা। অনেক চাষি সরাসরি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানে করে তরমুজ নিয়ে আসছেন আড়তে। বিক্রি করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে বেপারীরা চাষিদের কাছ থেকে কিনে তরমুজ পরিবহন করে নিয়ে আসছেন আড়তে।

মঙ্গলবার যাত্রাবাড়ী আড়তে ছোট আকারের তরমুজ প্রতি শ’ বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। মাঝারি সাইজের তরমুজ প্রতি শ’ বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বড় তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি পিস তরমুজ ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার চরকাজল থেকে চাষি শাহজামাল খন্দকার যাত্রাবাড়ী আড়তে তরমুজ নিয়ে এসেছেন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার তরমুজের ফলন ভালো। শুরুতে দাম বেশি ছিল। এখন দাম ক্রমেই কমছে। তিনি বলেন, আমি এক কানি (৩২০ শতাংশ) জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। মোট খরচ দুই লাখ টাকার মতো। আজকে আমি ছোট ও মাঝারি সাইজের তরমুজ এনেছি। প্রতিশ’ ৪ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এক কানি জমি থেকে ৫ থেকে ৬ হাজার তরমুজ পাওয়া যায় জানিয়ে শাহজামাল বলেন, তরমুজের যে দাম তাতে আমাদের খরচ উঠে লাভও থাকছে।

Tormuj-3

মা ফাতেমা বাণিজ্যালয়ের মালিক নাসির আখন্দ বলেন, এখন তরমুজের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। দামও কমেছে। তবে বেচাকেনা খারাপ নয়। শুরুতে যে তরমুজ ৩০ হাজার টাকায় (প্রতি শ’) বিক্রি হয়েছে এখন সেটা ১৫ হাজারে নেমে এসেছে। নিউ দেশি ফার্মের মালিক ও তরমুজের আড়তদার আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার তরমুজের ফলন ভালো, বিক্রিও ভালো। মোটামুটি মে মাস পর্যন্ত আড়তে তরমুজের সরবরাহ থাকবে। দিন যত যাবে আশা করছি তরমুজের দাম আরও কমবে। তিনি বলেন, দেশের কোথাও কোথাও এখন বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকায়ও মেঘ মেঘ। ঢাকায় বা তরমুজ ক্ষেতের এলাকায় বৃষ্টি হলে সবারই সর্বনাশ হবে।

যাত্রাবাড়ী আড়তেই দেখা হলো পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোরালিয়ার তরমুজ চাষি এনায়েত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার তরমুজের ফলন ভালো, ব্যবসাও মোটামুটি ভালো। তবে তরমুজ আনতে কিছুটা ঝামেলায় পড়ছি আমরা। ভাড়াটা অনেক বেশি। তরমুজের বেপারী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি দক্ষিণাঞ্চলের লাহারহাট, স্বরুপকাঠি থেকে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে করে তরমুজ এনে বিক্রি করি। এবার ব্যবসা এখন পর্যন্ত ভালো। দাম ধীরে ধীরে কমছে। তবে বেশি কমলে আমরা ক্ষতিগস্ত হব, চাষিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Tormuj-4

আড়তের মক্কা-মদিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক শামীম তালুকদার বলেন, তরমুজের ফলন ভালো। তবে আমার কাছে এবার ক্রেতা কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তারপরও সব মিলিয়ে ব্যবসা খারাপ না। যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে তরমুজ বিক্রি করছিলেন সোহেল হোসেন। তিনি বলেন, এবার তরমুজের দামটা এখন পর্যন্ত একটু বেশি। আমরা বেশি দামে আনি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। তারপরও বিক্রি হচ্ছে। বড় তরমুজ ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন বলেও জানান এই খুচরা ব্যবসায়ী। শনির আখড়া গোবিন্দপুরের সুবর্না মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক শ্রী অমূল্য চন্দ্র দত্ত (সুজিত) বলেন, এবার তরমুজের দাম অনেক বেশি। সোমবার মাঝারি সাইজের একটি তরমুজ কিনেছি আড়াইশ’ টাকা দিয়ে।

আরএমএম/ওআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :