আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের অ্যাম্বুলেন্সে রাজীবের শেষযাত্রা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৪:০৫ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

দুপুর দেড়টা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গের পাশে এসে থামলো আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যান। এ অ্যাম্বুলেন্স দিয়েই ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে ফিরবেন নিহত রাজীব।

দুই বাস চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে লাশের গোসল করাতে পুরোনো মর্গ ঘরের পাশের ছোট্ট গোছলখানায় প্রবেশ করেন হুজুর। রাজীবের মামা জাহিদুল ইসলাম জানান, গোসল শেষে কাফনের কাপড় পড়িয়ে প্রথম নামাজে জানাজার জন্য মরদেহ হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে নেয়া হবে।

এর মিনিট পাঁচেক পরই কাঠের কফিনে সাদা কাফনে মোড়ানো রাজিবের মরদেহ বের করা আনা হলো। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের গাড়িতে ধরাধরি করে তোলা হলো রাজীবের মরদেহ। পাশে মূর্তির মতো স্থির দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে কফিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন মামা জাহিদুল ইসলাম।

কফিনের বাক্সটা খোলা দেখে স্বজনদের একজন ঢাকনা লাগিয়ে দিতে বলেন। তবে অ্যাম্বুলেন্সের একজন জানান, ঢাকনা লাগালে গরমে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে।

কফিন তোলার পর মামা জাহিদুল ইসলাম গাড়ির সামনের সিটে ড্রাইভারের পাশে বসেন। এ সময় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের অ্যাম্বুলেন্সটি সাইরেন বাজিয়ে রাজীবের মরদেহ দিয়ে মর্গ এলাকা প্রস্থান করে। মা-বাবা হারা রাজীব শেষ বারের মতো বিদায় নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এলাকা থেকে।

রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় হাত হারানোর ১৩ দিন পর সোমবার দিনগত রাতে মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন। ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদ্বিপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মারা গেছেন রাজীব।

এমইউ/আরএস/এমএস