পূর্বপরিচিত নাদিমের নেতৃত্বেই শিশু সায়ান অপহরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২২ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

স্কুল পড়ুয়া সায়ান অপহৃতের পর হন্য হয়ে খুঁজেও লাভ হয়নি। লাভ হয়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেও। তাই ছেলেকে বাঁচাতে অপহরণকারীদের কথা মতো দিতে হয়েছে মুক্তিপণের টাকা। ১৯ লাখ টাকা দিয়ে সায়ানকে ফিরে পায় পরিবার।

তবে সায়ান ফিরে এলেও থেমে থাকেনি র‌্যাব। তদন্ত চালিয়ে যায়। অবশেষে ২০ দিন পর অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার ও মুক্তিপণের ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা উদ্ধারে করে র‌্যাব-৪।

মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব-৪ জানায়, অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যের সবাই তরুণ। এ চক্রের মূল হোতা মো. নাদিম হোসেন (১৯)। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতারের পর সহযোগীদেরও গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন, মো. আসিফ (১৯), সজীব খান (২০) ও নাইম হাওলাদার (২২)। আসিফের বাসা থেকে ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা উদ্ধারসহ ১৪ লাখ ২৮ টাকা, তিনটি মোবাইল সেট ও অপহরণ কাজে ব্যবহৃত বাইসাইকেল জব্দ করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৪ জানায়, এক সময় সায়ানের চাচার অফিসে চাকরি করত নাদিম। সেই সূত্রে সায়ানদের পরিবারের সব তথ্যই তার জানা। মূলত: মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেই অপহরণ করা হয় শিশু সায়ানকে।

সংবাদ সম্মেলেনে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, সায়ান পরিবারের সঙ্গে রূপনগরের বাসায় থাকত। স্থানীয় এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউটের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সায়ান।

গত ২৭ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে বাইসাইকেল নিয়ে বের হয় সায়ান। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলেও সেদিন আর ফিরেনি। পরে অনেক খোঁজ করেও সন্ধান মেলেনি।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সায়ানের বাবার মোবাইলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কল দিয়ে জানান, সায়ানকে অপহরণ করা হয়েছে। ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলেই কেবল মুক্তি পাবে সায়ান। টাকা না দিলে সায়ানকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

পরে ওই রাতেই অপহৃত সায়ানের চাচা মো. হাবিবুর রহমান রূপনগর থানায় মামলা করেন। পরে র‌্যাব ৪-এর কাছে লিখিত অভিযোগও দেন। পাশাপাশি র‌্যাব ও পুলিশকে না জানিয়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সায়ানের পরিবার। ১৯ লাখ টাকার বিনিময়ে তারা সায়ানকে মুক্ত করে। তবে র‌্যাব তদন্ত অব্যাহত রাখে।

Kidnapping

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক বলেন, শেষ পর্যন্ত মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারী চক্রকে শনাক্ত করা হয়। গত রোববার সন্ধ্যায় মিরপুর ১১ নম্বর থেকে ওই চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা নাদিম জানায়, সায়ানের চাচার অফিসে চাকরি করতো নাদিম। চাকরির সুবাদে সায়ানদের পরিবারের অনেক তথ্যই তারা জানা ছিল।

অপহরণ পরিকল্পনার বিষয়ে নাদিম জানায়, দুই মাস আগে তারা অপহরণের মাধ্যমে সহজে বেশি অর্থ আয়ের পরিকল্পনা করে। এ জন্য টার্গেট করে সায়ানকে। এ কাজে সহায়তার জন্য তারা সায়ানের বাবার অফিসের অফিস সহকারী মো. নাঈম হাওলাদারের পরামর্শ নেয়।

ঘটনার দিন সায়ান বাসা থেকে বের হলে আসিফ ও নাদিম তাকে বুলডগ প্রজাতির কুকুর দেয়ার লোভ দেখিয়ে অপহরণ করে। ওইদিন তারা সায়ানকে তাদের আরেক সহযোগী সজীব খানের বাসায় রাখে এবং সায়ানের পরিবারের সঙ্গে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দর কষাকষি করে।

২৮ মার্চ দুপুর ২টার দিকে তারা সায়ানের বাবার কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় মিরপুর-১৩ পুলিশ স্টাফ কলেজের সামনের রাস্তায় সায়ানকে ছেড়ে দেয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নাদিম ও আসিফ জানায়, তারা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ২০১৪ সালে তারা জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরে পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

জেইউ/এএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :