ধর্মের প্রতি সম্মান কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা নয় : ইনু

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘এখানে আছে সুফিবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ, বৌদ্ধ, হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান প্রভৃতি ধর্মের কথা। ধর্মচর্চা হয়েছে কিন্তু সংস্কৃতির ধর্মীয়করণ এখানে হয়নি, হয়নি সাম্প্রদায়িকীকরণও। মনুষ্যত্বের স্বীকৃতি, মনুষ্যত্বের জয়গান, মানুষে-মানুষে সমতা, ধর্মের প্রতি সম্মান কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা নয়। আছে পরমত, পরধর্ম সহিষ্ণুতা।’

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে পঞ্চম ‘ফোকলোর সামার স্কুল’ ও আন্তর্জাতিক ফোকলোর কর্মশালার সমাপনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনদিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি।

দেশের চার হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার কথা উলে­খ করে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, ‘এ ভূখণ্ডের মানুষ অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন সমাজে বিশ্বাসী, জঙ্গি-দানবের স্থান এখানে নেই। নিজস্ব লোকাচারেই এ দেশের মানুষের হৃদয় নরম কিন্তু অত্যাচার, অনাচার, দখলদারিত্ব, জাত-পাতের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার।’

ইনু বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদিতা, দখলদারিত্ব, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন এ দেশের সংস্কৃতি নয়। এগুলো সবই ইংরেজ-পাকিস্তানি-সামরিক-স্বৈরাচারদের চাপিয়ে দেয়া প্রপঞ্চ, যা সমাজ গ্রহণ করছে না।’

‘এই কতৃত্ববাদিতা, দখলদারিত্ব, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা- এগুলো সমাজের রাজনৈতিক আবর্জনা, যা কচুরিপানার মতো। দেশকে নিজরূপে উদ্ভাসিত করতে কচুরিপানার বাহনকে তাই দমন করতে হবে। সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তির কুয়াশাকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিতে হবে। শুধু শারীরিক নয়, বিপ্লব ঘটাতে হবে মনে, লোকসংস্কৃতির অকৃত্রিম ধারায় গাইতে হবে মনুষ্যত্বের জয়গান,জাতিসত্তার জয়গান, চলতে হবে অসাম্প্রদায়িক পথে’, -বলেন তিনি।

ইনু বলেন, ‘বিদেশি হবার চেষ্টা করে আমরা লোক হাসাবো না। বরং বাঙালির পরিচয়ে বিদেশিদের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো। আমাদের সেই মনন বা মানসিক ধাঁচ তৈরি করতে হবে, যে মন ইংরেজি কায়দায় বাংলা বলবে না, বাংলাকে আরবিকরণ করবে না, স্বাভাবিক পোশাকেই স্বচ্ছন্দ থাকবে -ঢং করতে গিয়ে সং সাজবে না।’

ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান খান, ভারতীয় অধ্যাপক জওহরলাল হান্ডু, ড. সুখবিলাস বর্মা, ড. অসীমানন্দ গঙ্গোপাধ্যায়, যুক্তরাজ্যের ফোকলোরবিদ মিস জেনিফার রিড, এ দেশের ফোকলোরবিদ ড. শেখ মকবুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এফএইচএস/জেডএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :