১৮ বছর কাজ করে নিজের জুয়েলার্সেই চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৮
১৮ বছর কাজ করে নিজের জুয়েলার্সেই চুরি

রাজধানীর গুলশান-২ এর আমিন জুয়েলার্সের স্বর্ণ চুরির ঘটনার মূল হোতা নিরাপত্তা কর্মী মো. আব্দুস সোবহান মোল্লাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। সোবহান গুলশান-২ ডিসিসি মার্কেটে আমিন জুয়েলার্সে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নিরাপত্তা কর্মীর দায়িত্ব পালন করছিল।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এস এম মোস্তাক আহমেদ একথা জানান। মঙ্গলবার ও বুধবার গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও মাওয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন-নিরাপত্তাকর্মী মো. আব্দুস সোবহান মোল্লা (৬১), তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫৫), মেয়ে সীমা (২৭) ও মেয়ের জামাই হাফেজ মো. বিল্লাল হোসেন ওরফে বুলবুল (৪০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৯৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিসি বলেন, স্বর্ণ চুরির ঘটনায় সোবহানকে সাহায্য করেছিল মার্কেটের রাজমিস্ত্রি সাদ্দাম। সে এখনও পলাতক রয়েছে। মোট চুরি যাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ছিল ৬৭৯ ভরি ও টাকা ছিল ২২ লাখ। উদ্ধার হয়েছে ৪৯৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। বাকি টাকা ও স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, গত ১৪ তারিখ রাতে গুলশান-২ এর ডিসিসি মার্কেটে আমিন জুয়েলার্সের শো-রুমের ছাদ কেটে নিরাপত্তা কর্মী আব্দুস সোবহান মোল্লা ও রাজমিস্ত্রি সাদ্দাম পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণ ও টাকা চুরি করে। চুরির পরে তারা ছাদের কাটা অংশে ঢালাই দিয়ে তার উপর ড্রাম দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন রোববার মার্কেট বন্ধ থাকায় সোমরাব (১৬ এপ্রিল) দোকান খুলে মালিক চুরির বিষয়টি টের পায়। তিনি তাৎক্ষণিক থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দ্রুত তদন্ত শুরু করে।

ডিসি-গুলশান আরও বলেন, ছাদের নতুন ঢালাই দেখে সন্দেহ হলে শোরুমের নিরাপত্তা কর্মী সোবহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য গরমিল করলে তার উপর সন্দেহ প্রবল হয়। এক পর্যায়ে সোবহানের শরীরে বিভিন্ন স্থানে কাটাছেঁড়া দেখে কারণ জানতে চায় পুলিশ। উত্তরে কোনো সন্তোষজনক জবাব না দেয়ায় তাকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে সে চুরির ঘটনা স্বীকার করে। পরে সোবহানের দেয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৯৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর পলাতক আসামি গ্রেফতার, চুরি যাওয়া বাকি স্বর্ণ ও টাকা উদ্ধারে রাজধানী ও এর আশপাশে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া তিনি বলেন, গুলশান থানা পুলিশের তিনটি টিম এসব স্বর্ণ ও টাকা উদ্ধারে কাজ করেছে। নিরাপত্তা কর্মী সোবহানের বাড়ি গোপালগঞ্জে। চুরির পর তার স্ত্রী এসব স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ২৫৩ ভরি স্বর্ণসহ গোপালগঞ্জের নিলফা গ্রামের নজরুলের বাড়ি থেকে তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি স্বর্ণ মাওয়া ও মানিকগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।

গুলশান-২ এর ডিসিসি মার্কেট আমিন জুয়েলার্সের শোরুমের মালিক কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, সোবাহান দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করছে। তাকে আমরা অনেক বিশ্বাস করতাম। এ সুযোগে সে পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। পহেলা বৈশাখে শো-রুমে বেচাকেনা অনেক হয়েছিল। ওইদিন বিক্রি শেষে রাত ১০টার পরে দোকান বন্ধ করে চলে যাই। রোববার সাধারণত দোকান বন্ধ থাকে তাই সোমবার সকালে দোকান খুলে দেখি জুয়েলারি বাক্সের ভেতর থেকে স্বর্ণ ও টাকা চুরি হয়েছে। পরে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত শুরু করে।

চুরির ঘটনায় গতকাল ১৭ এপ্রিল গুলশান থানায় একটি মামলা হয়।

এআর/এএইচ/জেআইএম