টিআইবির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ১৪ মে ২০১৮

জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তরুণ বিতার্কিকরা। রোববার চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার শেষ দিনে এ দাবি তুলে ধরেন তারা।

টিআইবির ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (সিএফজি) প্রোগ্রামের আওতায় এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশের মোট আটটি দলের ১৬ জন বিতার্কিক এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন বিতার্কিক আব্দুন নূর তুষার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। অন্যান্যের মধ্যে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন।

TIB-4

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘মূলত শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। অথচ তারা এর নেতিবাচক প্রভাবের শিকার দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এ অভিঘাত মোকাবিলায় অনুদান (গ্র্যান্টস) হিসেবে ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ঋণ দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু স্বচ্ছতাই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি জবাবদিহি ও শুদ্ধাচার থাকতে হবে। সীমিত সম্পদের কথা বিবেচনা করে সার্বিকভাবে সুষ্ঠু ও বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন এবং গুরুত্ব বিবেচনাপূর্বক প্রকল্প গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তরুণদের সম্পৃক্ততা জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন কার্যক্রমের সার্বিক উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে টিআইবি বিশ্বাস করে। জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন বিষয়ে তরুণদের চিন্তা-ভাবনা জানতে এবং এ বিষয়ে তাদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জলবায়ু খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, শুদ্ধাচার ও নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে টিআইবি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদের দেশগুলোকে দায়ী দেশগুলো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেবে- এটাই আমাদের দাবি।’

১২ ও ১৩ মে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ), বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রীলংকা এবং কম্বোডিয়ার বিতার্কিক দল অংশগ্ নেয়। চূড়ান্ত পর্বে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক দল চ্যাম্পিয়ন এবং শ্রীলংকার বিতার্কিক দল রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আর শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদমান করিম।

এমএমজেড/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :