সাগরে ১ মিটার পানি বাড়লে দেশের ১৬ শতাংশ প্লাবিত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ১৫ মে ২০১৮

সাগরে ১ মিটার পানি বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের ১৬ শতাংশ স্থান প্লাবিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী এস আই খান। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি), ঢাকা কেন্দ্রের উদ্যোগে এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। আইইবি’র ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আইইবি কাউন্সিল কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নানা ধরনের দুর্যোগ দেখা যায়। কিছু কিছু দুর্যোগ প্রাকৃতিক কারণে যেমন ভূমিকম্প, বন্যা, বজ্রপাত ইত্যাদি। বাংলাদেশ সব কয়টি দুর্যোগ মোকাবেলা করে আসছে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় দুর্যোগ হলো মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তন। আমরা জানি যে, মানুষের বিভিন্ন কাজের কারণে বায়ুমণ্ডলে গ্যাস বেড়ে যাচ্ছে। গ্যাস বেড়ে যাওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতা বেড়ে যাচ্ছে। যে গ্যাসগুলোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে তাকে গ্রিন হাউস বলে থাকি। যদিও গ্রিন হাউসের জন্য বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই। যাদের ভূমিকা রয়েছে তাদের মধ্যে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইউরোপ তারা ৮০ শতাংশ গ্রিন হাউস গ্যাস তৈরি করে থাকে। এজন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে হিমায়িত বরফ গলে যাচ্ছে, যা আমাদের দেশে চলে আসছে। বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে।

আমরা ধারণা করছি, সমুদ্রের পানি ১ মিটার বেড়ে গেলে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ১৬ শতাংশ স্থান প্লাবিত হবে, যার ফলে প্রায় ৩ কোটি মানুষ আক্রান্ত হবে। আমাদের জীববৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে কোথাও সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। তাই বিশ্ব জলবায়ু মোকাবেলা এখনই করতে হবে। আমরা নানাভাবে এটি মোকাবেলা করতে পারি। আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্য বইতে যুক্ত করতে পারি। সেগুলো আমার তুলে ধরতে পারি। এগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিতে পারি। ২০১৬ সাল থেকে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ধরে নিয়েছি। বজ্রপাতের ফলে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। বজ্রপাত মোকাবেলা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে লাখ লাখ তাল গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নদী বন্দরগুলো আছে সেগুলোতে ‘লাইটনিং ডিটেকটিভ সেন্সর’বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সেন্সরগুলো বসানোর ফলে ১০ থেকে ৬০ মিনিট আগে বজ্রপাতের সংকেত পাওয়া যাবে। যার ফলে মানুষ সাবধান হতে পারবে।

বাংলাদেশে যে হাওর অঞ্চলগুলো আছে সে হাওরে লোকজন কাজ করে থাকে। কিন্তু বজ্রপাতের জন্য কোনো আশ্রয়স্থল নাই। সেজন্য বর্তমান সরকার কিছু কিছু বজ্রপাত আশ্রয় কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করছে। যার ফলে অল্প সময়ের নোটিশে তারা কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পুরোপরিভাবে চালু হলে আগামী ছয় মাস পর থেকে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম আভাস আসবে। পটুয়াখালী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ষার পানি আটকাতে ৬০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ৩০ বছর সময়ের মধ্যে জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে জাপানি প্রযুক্তি দ্বারা ‘বে ক্রস ড্যাম’ নির্মাণে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখবে। তিনি গঙ্গা চুক্তির পাশাপাশি তিস্তা চুক্তির বিষয়ে ভারত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে তিনি উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. ওয়ালিউল্লাহ সিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ- এর প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান এবং সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু)।

এইউএ/ওআর/এমএস