রেলের ১০টি ইঞ্জিন কিনতে কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ১৭ মে ২০১৮

রেলের ১০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রনিক লোকোমোটিভস (ইঞ্জিন) কিনতে কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান হুন্দাই রোটেম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বৃহস্পতিবার (১৭ মে) রাজধানীর রেলভবনে এ চুক্তি সই হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) মো. শামসুজ্জামান ও হুন্দাই রোটেমের পরিচালক (গ্লোবাল রেল গ্রুপ টু-এশিয়া) কাওয়াং কুইং উন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির আওতায় হুন্দাই রোটেম আগামী ২ বছরের (২৪ মাস) মধ্যে ১০টি ইঞ্জিন সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৭ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার ৫৬০ টাকা। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও সরকার এ অর্থায়ন করবে।

অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘ইঞ্জিনের অভাবে অনেক রেল চালাতে সমস্যা হচ্ছে। কোচেরও অভাব আছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে ৪৬টি ইঞ্জিন এনেছি। আজকে চুক্তি অনুযায়ী এডিবির অর্থায়নে আরও ১০টি ইঞ্জিন রেল বহরে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘টেন্ডার ফাইন্যান্সের অধীনে আরও ৭০টি রেল ইঞ্জিন আনবো। গতকাল (১৬ মে, বুধবার) ক্রয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে অনুমোদন পেয়েছি। কোরিয়ার অর্থায়নে আরও ২০টি লোকমোমেটিভ পাব, সেটিও প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া আরও ৪০টি লোকোমোটিভ পাব এডিবির অর্থায়নে। আমার টেন্ডার কল করেছি, এগুলো বহরে আসবে। ভবিষ্যতে যাতে লোকোমোটিভের অভাব না হয় সেই ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ইতোমধ্যে ২৭০টি কোচ আনা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ২৫০টি কোচ আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান মুজিবুল হক।

হুন্দাইয়ের প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তাড়াতাড়ি দরকার, আমি হুন্দাইকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পাঁচটি বা কিছু লোকোমোটিভ সরবরাহের অনুরোধ করছি।’ হুন্দাইয়ের প্রতিনিধি জবাবে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ে লোকোমোটিভ সরবরাহে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।’

বিএনপি আমলে একটি লোকোমোটিভ আনারও সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১৪০টি রেল স্টেশনের মধ্যে ৬০টি চালু করেছি। আরও ৮০টি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইনশাল্লাহ চালু করবো।’

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/আরএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :