বাটার ১১ আউটলেটের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজুজ্জামান
সিরাজুজ্জামান , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৬ পিএম, ১৭ মে ২০১৮

আইন অমান্য করায় বাটা সু কোম্পানির ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১১ আউটলেটের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের কর্মঘণ্টা না মেনে কাজ করতে বাধ্য করা এবং উৎসব ছুটি না দেয়াসহ নানা কারণে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিটির বিরুদ্ধে এ মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয স্থায়ী কমিটির ১৮তম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু, মো. ইসরাফিল আলম, ছবি বিশ্বাস, শিরীন আখতার, মো. রুহুল আমিন, মো. রেজাউল হক চৌধুরী এবং রোকসানা ইয়াসমিন ছুটি উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, আগে বাটা সু কোম্পানিতে চাকরিচ্যুতদের বিষয়ে তদন্ত করতে সংসদীয় সাব কমিটি গঠন করা হয়। মো. ইসরাফিল আলমকে আহ্ববায়ক করে এ সাব কমিটি একটি প্রতিবেদনও দেয়। ওই প্রতিবেদনে বাটা সু কোম্পানির বিরুদ্ধে এসব অনিয়ম তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে সাব কমিটির প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সাব কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সুপারিশ করে কমিটি।

বৈঠকে ইসরাফিল আলম বলেন, ২০১৩ সালের শ্রম আইন লঙ্ঘন করে স্থায়ী পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে আউটসোসিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ দিয়েছে বাটা সু কোম্পানি। এছাড়া কোম্পানিটি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) সুবিধা নিলেও শ্রম আইন মানে না। রাজধানীর গুলশান এলাকায় রোববার সিডিউল অনুযায়ী বাটার সব শো রুম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু সেটাও অমান্য করে খোলা রাখা হয়। মালিকপক্ষ আট ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ ঘণ্টা ডিউটি করতে বাধ্য করে এবং সাপ্তাহিক ছুটিও দেয় না।

সাব কমিটির অপর সদস্য বেগম রোকসানা ইয়াসমিন ছুটি বলেন, বাটা কোম্পানি যদি বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা তুলে নেয় তাহলে দেশের মানুষের পায়ের জুতার কোনো অভাব হবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের শ্রমিক তার শ্রম দেয়ার পরও যদি ন্যায্য মূল্য না পায় তাহলে মালিক পক্ষকে শাস্তি দেয়া উচিত।

কমিটির সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান এমপি বলেন, বাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আরও যে বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে তারাও বাটার পথ অনুসরণ করবে।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানীর গুলশানসহ ২৩টি উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের অধীন মোট ২১৫টি আউটলেট রয়েছে। আইন ভঙ্গ করায় গুলশানের দুটি, এলিফেন্ট রোডের দুটি, উত্তরায় দুটি, কমলাপুর, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, ওয়ারী এবং চট্টগ্রামের একটিসহ মোট ১১টির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠান দেশের সব সুবিধা নিয়েও শ্রমিকদের শোষণ করবে, চাকরিচ্যুত করবে তা মেনে নেয়া যায় না। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচএস/এএইচ/পিআর