বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আজিমপুর কবরস্থানে স্বজনরা

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ১৮ মে ২০১৮
বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আজিমপুর কবরস্থানে স্বজনরা

বেলা সাড়ে ১১টা, রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানের উত্তরপাশের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন একজন বয়োবৃদ্ধ ভদ্রলোক। বাইরে তখন ঝিরঝিরে বৃষ্টি ঝরছে। কবরস্থানের ভিতরে শেডের নিচ দিয়ে খুবই আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে হেঁটে একটি কবরের পাশে নিরবে দাঁড়িয়ে রইলেন বেশ কিছুটা সময়। তারপর হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করলেন। মোনাজাত শেষে আবার একইভাবে ধীর পায়ে বাইরে বেরিয়ে গেলেন।

বয়োবৃদ্ধ এ ভদ্রলোকের নাম হেদায়েত উল্ল্যাহ। পিডিবির অবসরপ্রাপ্ত ফোরম্যান, রাজধানীর গ্রীণরোডে বাসা। চার মাস আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী মারা গেছেন।

kobor1

হেদায়েতউল্ল্যাহ জানান, তার বয়স ৯০ বছরেরও বেশি। রমজানের প্রথম দিন এই আজিমপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত বাবা, মা ও সদ্যপ্রয়াত স্ত্রীর কবর দেখা ও মোনাজাতের উদ্দেশে সকাল সকাল বাসা থেকে একাই বেরিয়েছেন। বাসায় ফিরে আবার জুম্মা’র নামাজ পড়বেন।

তিনি জানান, বয়স হয়েছে তাই প্রতি সপ্তাহে আসতে পারেন না। তবে শরীরটা ভাল লাগলেই ছুটে আসেন। কবে আবার তার ডাক আসে সেটা নিয়ে কবরস্থানে দাঁড়িয়ে ভাবেন।

kobor1

পবিত্র রমজান মাসের শুরু ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় আজ (শুক্রবার) শুধু বয়োবৃদ্ধ হেদায়েতউল্ল্যাহ একাই নন, নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু পুরুষ ও নারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই আজিমপুরে স্বজনদের কবর দেখতে ও মোনাজাত করতে ছুটে এসেছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে অনেকেই সঙ্গে কোরআন, হাদিস ও সুরার ধর্মীয় বইপুস্তক নিয়ে এসেছেন। স্বজনদের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে সুরা পাঠ করছেন। এরপর দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে মরহুমের বেহেশত নসিব করার জন্য দোয়া চাইছেন।

এদিকে আজ শুক্রবার ও রমজানের প্রথম দিন, তাই কিছুটা বেশি ভিক্ষা পাওয়ার আশায় আজিমপুর কবরস্থানের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় পাশের প্রবেশপথের দু’ধারে ভিক্ষুকদের বসে থাকতে দেখা যায়। আজিমপুর কবরস্থানে কর্তব্যরত এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, প্রতি শুক্রবারই উত্তরদিকের গেট স্বজনদের সুবিধার্থে খুলে দেয়া হয়। এদিন অনেক গণ্যমান্য মানুষও কবরস্থানে ছুটে আসেন বলে জানান তিনি।

এমইউ/এমএমজেড/এমএস