রোগ শনাক্ত না করেই অস্ত্রোপচার : রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ২০ মে ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৫৮ পিএম, ২০ মে ২০১৮

রাজধানীর ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে টাকার লোভে সত্তরোর্ধ্ব ক্যান্সারের এক বৃদ্ধা রোগীর রোগ শনাক্ত না করেই ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করে মেরে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অস্ত্রোপচারের পর ওই চিকিৎসক রোগীকে দফায় দফায় আইসিইউ ও কেবিনে রেখে সাড়ে আট লাখ টাকার বেশি বিল করেছেন। এছাড়া বাইরে থেকে লাখ দেড়েক টাকার ওষুধ কিনে দিতে হয়েছে। সবমিলিয়ে ১০ লাখেরও বেশি টাকা খরচ করা হলেও শেষ পর্যন্ত রোগীকে বাঁচাতে পারেননি ওই চিকিৎসক। হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে ওই বৃদ্ধা মৃত্যুবরণ করেন।

বরগুনার বামনা উপজেলা সদর স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম খান মো. খায়রুল আলমের স্ত্রী সালমা আলম (৭০)। সালমা আলমের জামাতা ফ্রান্স প্রবাসী নিয়াজ মাহমুদ জানান, তার শাশুড়ি গলগণ্ড রোগ নিয়ে গত ২৮ এপ্রিল মডার্ন হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম খোরশেদ আলম মজুমদারের চেম্বারে দেখাতে আসেন। এ সময় তিনি ডাক্তারকে জানান, আগে তিনি কয়েকজন চিকিৎসককে দেখানোর পর তারা জানিয়েছিলেন, তার (শাশুড়ি) অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি আছে। কিন্তু খোরশেদ মজুমদার তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো সমস্যা নেই। অস্ত্রোপচার পুরোপুরিই সম্ভব। রোগী সেরে উঠবেন। সবমিলিয়ে খরচ হবে দুই লাখ টাকার মতো।

আত্মীয়-স্বজন এতে ভরসা পেয়ে অস্ত্রোপচারের সম্মতি দেন। অপারেশন হয়। কিন্তু রোগীর অবস্থা ভালো না হয়ে দিনে দিনে খারাপের দিকে যেতে থাকে। আইসিইউতে নয়দিনে প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা বিল গুনতে হয়।

তিনি বলেন, সপ্তাহখানেক পরও যখন অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই, তখন আমার আত্মীয়-স্বজনকে জানানো হয়, ‘ক্যান্সার’ হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন বারবার সেই রিপোর্ট চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

নিয়াজ মাহমুদ জানান, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রোগব্যাধি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু অর্থলোভী এই চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পর বায়োপসি করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ার এক পর্য়ায়ে জানান, ক্যান্সার হয়েছে। নিছক টাকার লোভে ও হাসপাতালের বিল বাড়াতেই ওই চিকিৎসক এমনটা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মডার্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে আলিম নামের একজন জানান, স্যারের (ডা. খোরশেদ আলম) সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সকালে ফোন করতে হবে। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর চাওয়া হলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এমইউ/বিএ/এমএস