‘অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে শিল্পের বহুমুখীকরণ জরুরি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ২৭ মে ২০১৮ | আপডেট: ০৮:২০ পিএম, ২৭ মে ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বল্পদামে জমিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করে পরিবেশ সুরক্ষাসহ পরিকল্পিত শিল্পায়ন যেমনি একদিকে প্রয়োজন, অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কৃষি জমিরও প্রয়োজন। এ দুটি দিকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন যথা জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংসস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিল্প বহুমুখীকরণ জরুরি। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে দারিদ্র্য বিমোচন হবে, উৎপাদন ও রফতানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী হবে।

রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (চামেলী সভাকক্ষ) অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তৃতাকালে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সভায় অর্থমন্ত্রীসহ বোর্ডের সদস্য এবং অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশব্যাপী শিল্পের বিকাশ সাধনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের অনগ্রসর অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তথা শিল্পনগরী গড়ে তুলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে হ্রদ এবং জলাধার রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রত্যেক ভবনের বৃষ্টির পানি ওই জলাধারসমূহে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এছাড়া সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে পরিবেশ সুরক্ষার ওপরও জোর দিতে হবে।

সভায় বেজার বিগত সময়ের কর্মকাণ্ডসহ আলোচ্যসূচি উপস্থাপন করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

তিনি বলেন, বেজার উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে এ পর্যন্ত ৯৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান নির্বাচন, ২৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু, বেজার কার্যালয়ে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু, ওয়ানস্টপ সার্ভিস আইন পাশ এবং এ পর্যন্ত ১৮.৮৯০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাবের বিপরীতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গভর্নিং বোর্ডের সভায় অর্থ, শিল্প, বাণিজ্য, ভূমি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।

এমএ/জেএইচ/এমএস