লোকাল বাসই ভরসা যাদের

জসীম উদ্দীন
জসীম উদ্দীন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৮ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮ | আপডেট: ০১:৪১ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮

ঈদে বাড়ি ফিরতে প্রতিবছরই হাজারো ঝক্কি পোহাতে হয় মানুষকে। তবু লেখাপড়া বা জীবিকার তাড়নায় ঢাকায় পড়ে থাকা মানুষগুলোকে বাড়ি ফিরতেই হবে, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি না করলে ঈদটাই যেন মাটি তাদের।

ঈদের এক সপ্তাহ আগে গত রোববার থেকে ট্রেনে শুরু হয়েছে ঈদে বাড়ি ফেরা। আর ঈদের আগে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সড়ক এখন ঘরমুখোদের দখলে। ট্রেনে, বাসে, লঞ্চে, বিমানে যে যেভাবে পারছেন বাড়ি ফিরছেন।

যারা বাড়ি ফিরছেন, ট্রেন-বাসের টিকিট পাওয়াটাও তাদের জন্য সহজ ছিল। রীতিমতো টিকিট যুদ্ধে নেমে তাদের টিকিট হাতে পেতে হয়েছে। আর গন্তব্যে যেতে যারা বাসের আগাম টিকিট পাননি, তাদের ভরসা এখন লোকাল বাসগুলোই।

jagonews24

আর তাই বিভিন্ন রুটে যেতে রাস্তার উপরই কাউন্টার বসিয়ে হাঁকডাক করতে দেখো গেছে হেলপার-কন্ডাক্টরদের। আর সেসব বাসে যেতে মানুষেরও কমতি নেই।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র।

যাত্রীরা বলছেন ব্যস্ততা কাটিয়ে কাউন্টারে ভিড় করেও মেলেনি টিকিট। অনলাইনে ‘নেটওয়ার্ক এরর’ দেখানোয় টিকিট কাটা হয়নি। অনেকে ব্যস্ততার কারণেই কাউন্টারেই যেতে পারেননি। যে কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে লোকাল বাসের আশ্রয় নেয়া।

এ ছাড়াও নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষের ঘরে ফেরার শেষ অবলম্বন এই লোকাল বাস। আবার অন্য পরিবহনে যাদের যুদ্ধ করেও টিকিট মেলেনি তারাও একই পথে দাঁড়িয়েছেন এখন। শুধু তাই নয়, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট পঞ্চগড়ের মত কয়েকশ’ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে যেতে হবে বাড়ি। আবার দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ রুটের লোকাল বাসও চলছে গাবতলী থেকে।

গাবতলী লোকাল বাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, প্রত্যেকবারের চেয়ে এবার লোকাল বাসের যাত্রী বেশি। কারণ রাস্তাই যানজট নাই। ফোর লেনের সড়কও উদ্বোধন হয়েছে। যাত্রীরা নির্ধারিত সময়েই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে।

jagonews24

গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়- ছোট হ্যান্ড মাইকে একজন বলছেন, ‘আসেন ভাই আসেন। রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম কই যাবেন আসেন। আসলেই পাবেন টিকিট। আর দেরি নাই একটু পরেই ছাড়বে বাস। বিলম্বে হয়রান হইবেন না। আসেন তাড়াতাড়ি আসেন।’

আবার প্রধান সড়কে অনেকটা টানাহেঁচড়ার মধ্যে যাত্রীরা উঠছেন বাসে। পাটুরিয়াগামী আলিফা পরিবহনের হেলপার আরিফ বলছিলেন, ঈদ মৌসুম। পাটুরিয়ায় পৌঁছাতেই জনপ্রতি দেড়শ। বাসটির ছাদেও অনেকটা ঘটা করে যাত্রী তুলতে দেখা যায়।

সুরভী পরিবহনের সহকারি রুহুল আমিন জানান, রংপুর, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের জন্য ঈদ ‘সেবা’। লোকাল বাস হলেও ঈদ সেবায় প্রতিবছরই আমাদের গাড়ি চলে।

তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষই বেশি চলাচল করেন আমাদের বাসে। বাসের ভাড়া কম হয়। যাত্রীও মেলে পর্যাপ্ত।

কুষ্টিয়া-গোপালগঞ্জ রুটে উত্তরা পরিবহনের যাত্রী ব্যবসায়ী মজিবর রহমান বলছেন, ‘অনুভূতি জাইন্যা আর কী করবেন! লোকাল বাস নির্ধারিত সময়ের চেয়ে সময় বেশি লাগবে। বাড়ির মানুষগুলোর চেহারা ভাসতাছে চোখে। তাই দেরি না কইরা উইঠা পড়লাম।’

সাকুরা পরিবহন কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা রেজা জানান, ঈদে সব সময় চাপ থাকে বড় বাসগুলোর। কিন্তু ঈদে আমাদের প্রচুর যাত্রী। ঝালকাঠি, বরগুনার যাত্রীরা প্রথমে এখানেই আসছে।

ঘরমুখো মানুষগুলোর সবার উদ্দেশ্যই এক। পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা। তাই লোকাল বাসগুলোই এখন ভরসা তাদের।

জেইউ/এনএফ/আরআইপি