শ্রমিক সহায়তার আবেদন অনলাইনে, টাকা যাবে মোবাইলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৮

শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে সহায়তা পাওয়ার আবেদন অনলাইনে করা যাবে এবং সহায়তার অর্থ মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আফরোজা খান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লভ্যাংশ প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি।

শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে সহায়তার দেয়ার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ, এটি সহজ করা হবে কিনা- জানতে চাইলে শ্রম সচিব বলেন, ‘আমরা এতদিন আবেদনগুলো ম্যানুয়ালি রিসিভ করে প্রসেস করতাম। এতে অনেক সময় লাগতো ও জটিলতা তৈরি হতো। আমরা গত বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই অ্যাপ্লিকেশন রিসিভ করা থেকে অ্যাপিকেন্টের কাছে যে টাকা যাবে তা পুরোটাই অনলাইন সিস্টেম হবে।’

তিনি বলেন, ‘টাকাটা এতদিন আমরা চেকে দিতাম এখন শিওর ক্যাশের (রূপালী ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং) সঙ্গে আমরা একটি চুক্তি করতে যাচ্ছি। সহায়তার টাকাটা আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে সরাসরি চলে যাবে। তাকে কোনো চেকও রিসিভ করতে হবে না।’

শ্রম সচিব বলেন, ‘এই কাজটা করা হলে অনেক বেশি তাড়তাড়ি করতে পারব। এটার মধ্যে কোনো অভিযোগও থাকবে না, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।’

কবে নাগাদ এই ব্যবস্থায় যাবে সরকার- জানতে চাইলে আফরোজা খান বলেন, ‘সফটওয়্যার তৈরির জন্য আমরা বলেছি, সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে। আমরা মনে হয় এই ব্যবস্থা চালু হতে তিন মাস লাগতে পারে।’

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে আমরা অসহায় শ্রমিকদের ২৪ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছি। বর্তমানে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ৩০৫ কোটি টাকা রয়েছে।’

২০০৬ সালের শ্রম আইন (২০১৩ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, ২ কোটি টাকার বেশি মূলধনী প্রতিষ্ঠানের এক বছরের নিট লভ্যাংশের ৫ শতাংশের মধ্যে চার শতাংশ অর্থ নিজ কোম্পানির শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ থাকে। বাকি এক শতাংশের অর্ধেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে বাকি অর্ধেক শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে জমা দিতে হয়। এ তহবিল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের কল্যাণে অর্থ সহায়তা দেয় সরকার।

আরএমএম/এমবিআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :