পাহাড়ধস প্রতিরোধে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৬ এএম, ১৩ জুলাই ২০১৮

পাহাড়ধস প্রতিরোধে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পাহাড়ধসে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সেটি সড়ক দুর্ঘটনার চেয়েও মহামারি আকার ধারণ করবে। এ থেকে উত্তরণে পাহাড়ি অঞ্চলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে পাহাড়ধসের কারণ ও এর চ্যালেঞ্জসমূহ এবং প্রতিকারবিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

বক্তব্যে মায়া বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং বসবাসের স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকটেই পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিবছর পাহাড়ধসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। এ জন্য প্রকৃতি যতটুকু দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী মানুষ।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পানি নামার পথ রাস্তাঘাট তৈরির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানি নিয়মমতো নামতে পারছে না। পরিণামে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হচ্ছে। ঘটছে পাহাড়ধসে অপ্রত্যাশিত মৃত্যু। তাই রাস্তাঘাট তৈরি কিংবা বসতবাড়ি নির্মাণের সময় অবশ্যই পাহাড়ের পানি নামার জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দারিদ্রতার কারণে অনেকে ওইসব ঝুঁকিপুর্ণ অঞ্চলে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের সচেতন করা হলেও তারা তা শুনছেন না। দেখা গেছে, ২০১৮ সালে ১২৭ জন মানুষ ভূমিধসে মারা গেছে। পদক্ষেপ না নিলে এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

সেমিনারে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক রেশাদ মো. ইকরাম আলী বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ মানুষ মরছে, তাতে পাহাড়ধসের দুর্ঘটনায় বেশি নয়। কিন্তু পাহাড়ধসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনই না নিলে সেটি সড়ক দুর্ঘটনার চেয়েও মহামারি আকার ধারণ করবে।

অনুষ্ঠনে আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদের সঞ্চালনায় এবং আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন সরকারি কর্ম কমিশন ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী আব্দুল জব্বার খান।

বিশেষ অথিতি হিসেবে বক্তব্য দেন আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর এবং চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সুদীপ কুমার পালসহ প্রমুখ।

সেমিনারে ড. সুদীপ কুমার পাল ও ড. রেশাদ মো. ইকরাম আলীকে সম্মাননা প্রদান করেন ত্রাণমন্ত্রী।

এমএ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :