কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ফের হামলা

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ফের ছাত্রলীগ হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় ৫-৬ জন আহত হন।

রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করে ফেরার পথে এ হামলা চালানো হয়। সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা-মামলা এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক নিপীড়নের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চার কেন্দ্রীয় নেতাদের বাটা সিগন্যাল মোড় ও অন্যদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মারধর করা হয়।

‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজু ভাস্কর্যের সমাবেশ শেষে সিএনজিযোগে বের হন কোটা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা। এ সময় দু’টো বাইক নিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাদের পিছু নেয়। এদের মধ্যে ছিলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক মুরাদ হায়দার টিপু, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান উজ্জ্বল, জহুরুল হক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক আমির হামজসহ ছয় নেতাকর্মী। বাটা সিগন্যাল মোড়ে গিয়ে তারা সিএনজির পথরোধ করে। আন্দোলনকারীদের সিএনজি থেকে নামিয়ে এনে ব্যাপক মারধর করে। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ ও পথচারীরা মারধর করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদেরও ছিনতাইকারী বলে মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে রাতুল সরকার ছাত্রলীগের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হলেও অন্যদের নিয়ে যায় ছাত্রলীগ নেতারা।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের আরেকটি গ্রুপ কর্মসূচি শেষে হলে ফেরার প্রস্তুতি নেয়ার সময় রাজু ভাস্কর্যের সামনে হামলা চালায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মুহাম্মদ নিজামুল হকসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী। এরপর আন্দোলনকারীদের কয়েকজন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পালিয়ে গেলে সেখানেও হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ সময় দুই থেকে তিনজন আহত হয় বলে জানা গেছে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এদিকে মারধরের পর কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ভিত্তিক এক গ্রুপে লাইভে এসে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল সরকার বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচি শেষে আমি, কেন্দ্রীয় কমিটির বিন ইয়ামিন মোল্লা, সৌরভ ও মিয়াজী শাহবাগ পার হয়ে ধানমন্ডি যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের ৮-১০ জন সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা করেছে। সৌরভ ও মিয়াজীকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। আমি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে আসি।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগ হামলা করলে এ আন্দোলনের শুরুতেই করতো। তারপরও যদি কেউ হামলা করে থাকে তাহলে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে। ছাত্রলীগের কেউ যদি হামলায় জড়িত থাকে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

এর আগে প্রতিবাদ সমাবেশে আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, আটককৃতদের মুক্তি, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলমান থাকবে। আগামী ২৫ জুলাই বেলা ১১ টায় সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

এমএইচ/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :