বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে দেশ প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ডে পরিণত হতো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আজ প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ডে পরিণত হতো বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ কতদূর যেতো? শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি এ সভার আয়োজন করে। অর্থনীতি সমিতির সহ-সভাপতি এ জেড এম সালেহ এর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যলয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত।

তিনি বলেন, ‘সামাজকি অর্থনৈতিক সবক্ষেত্রে আমরা পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের এক্সপোর্ট ও রিজার্ভ বেশি, বিদ্যুৎ উৎপাদনও অনেক বেশি। সামাজিক ক্ষেত্রে কিছু সূচকে ভারতের চেয়েও এগিয়ে।

আমাদের গড় আয়ু ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের চেয়ে বেশি। শিশু ও মাতৃ-মৃত্যুহার ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের চেয়ে কম। ১৯৭২ সালে আমাদের গড় আয় ছিলো ৩৯ বছর। আজকে এটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরের বেশি।’

‘ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানে গড় আয়ু ৭০ বছরের কম। আমরা এখন স্যাটেলাইট ক্লাব ও আনবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্লাবের সদস্য। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুসহ অনেক অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। কেউ ভাবতে পারেনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে বলেছিলেন আমি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করবো। আজকে সেটি দৃশ্যমান।’

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ক্ষতি করেছে সামরিক সৈরশাসকরা। বিশেষ করে জিয়াউর রহমান। যদি কেউ এ দেশকে ধ্বংস করে থাকে সে হচ্ছে জিয়াউর রহমান। সে শুধু স্বাধীনতার মূল্যবোধ চেতনাকেই ধ্বংস করেনি। বাংলাদেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলো।

১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার মূল্যবোধকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ২০০১ সালে এসে সে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আবার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সমাপ্ত করে বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যমুনা ব্রিজ, হোটেল সোনাগাঁও, স্যাটেলাইট এসব বিষয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালেই চিন্তা করেছিলেন। এই আমরা সমুদ্রসীমা পেয়েছি এটারও ভিত্তি আলোচনা শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু’।

তিনি আরও বলেন, ‘কানাডায় একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন। তথন তার ভাষণ শুনে ফিদেল কাস্ত্রে বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি তবে একজন জাতির পিতাকে দেখেছি।’

এমইউএইচ/এমআরএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :