কোটা বহালের আহ্বান বিরোধীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৮

দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় কিছু কোটা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্রাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান কোটা সংস্কার কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতারা। এ সময় নতুন করে তারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন।

লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়াসমীন বলেন, দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় কিছু কোটা বহাল রাখা দরকার। ছাত্রসমাজ কখনোই কোটা বাতিল চাইনি। শুরু থেকেই ৫ দফার ভিত্তিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছে।

তারা বলেন, ছাত্রসমাজের যৌক্তিক ও সময়োপযোগী এ আন্দোলনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন রয়েছে। ছাত্রসমাজের এ আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও ন্যায্যতার বিচারে এবং অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মপদ্ধতির কারণে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ‘দাবি আদায়ে একটি আদর্শ আন্দোলন’ হিসেবে সমাদৃত হয়েছে। ছাত্রসমাজের এ আন্দোলনে জাতির শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, এমনকি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। যাতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, চলমান কোটা পদ্ধতি সকলের কাছে একটি অগ্রহণযোগ্য ও বৈষম্যমূলক প্রথা।

তারা বলেন, ৫ দফার আলোকে ‘কোটা সংস্কার’ প্রস্তাবটি সকলের কাছে প্রশংসিত এবং গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের প্রাথমিক প্রস্তাবনাটি ছাত্রসমাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করছে। তবে ছাত্রসমাজ মনে করে, ৫ দফার আলোকে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার হলে সবার কাছে অধিকতর যুক্তি সঙ্গত হবে।

তারা বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চারবার আলোচনা করে সময় নিয়েও কোনো কাজ না করে নির্যাতন-নিপীড়ন, দমনপীড়ন চালানোয় সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীদের মনে অনাস্থা ও সংশয় তৈরি হয়েছে। ছাত্রসমাজ তথা সাধারণ মানুষ আরও মনে করে, কোটা সমস্যা সমাধানে বার বার ‘আদালতের একটি পর্যবেক্ষণ’ কে অজুহাত হিসেবে সামনে আনার বিষয়টি কেবল নতুন করে কালক্ষেপণের একটি পন্থা।

সংগঠনের আরেক যুগ্ম সম্পাদক আতাউল্লাহ বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে তবে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে আলোচনা করা দরকার। ছাত্রসমাজ মনে করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সহজেই সমস্যার সমাধান করা যাবে। সমস্যা সমাধানে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে আবারও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানায়।

এ সময় তিন দফা দাবি ঘোষণা করেন তারা। দাবির মধ্যে রয়েছে- আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ৩/৫ দফার আলোকে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের প্রজ্ঞাপন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দেয়া আল্টিমেটাম আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান তারা।

এ সময়ের মধ্যে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হলে আবারও সারাদেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি করেন তারা।

এমএইচএম/এএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :