কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত সিটি কর্পোরেশন

আবু সালেহ সায়াদাত
আবু সালেহ সায়াদাত আবু সালেহ সায়াদাত , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৮ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮

ত্যাগের মহিমা ও উৎসবের আমেজে সারা দেশে আজ ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ঈদুল আজহা উদযাপনে প্রধান উদ্দেশ্য পশু কোরবানি। ঢাকা মহানগরে বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ে সুষ্ঠুভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ তারপরও নাগরিকগণ যেন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে নির্বিঘ্নে পবিত্র ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে পারে সে লক্ষ্যে কোরবানির পর পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে ইতোমধ্যে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব দুই হাজার ৭০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অতিরিক্ত হিসাবে সর্বমোট ৯ হাজার ৫০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত করা হয়েছে। এছাড়া কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ৫২০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করবেন ঢাক দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায়, সবমিলিয়ে ১৪ হাজার ৭০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করবেন বলে দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এছাড়া দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণে হটলাইন খোলা হয়েছে। বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলতে নগরবাসীর মাঝে প্রায় পাঁচ লাখ পলিথিনের ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। বর্জ্য অপসারণের সুবিধার্থে দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এক হাজার ১৫১টি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বছর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় দুই লাখ ৩২ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হবে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ হাজার বেশি। কোরবানির পশু জবাই করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এ বছর ৫৪৯টি স্থান নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬০২টি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণের প্রস্তুতির বিষয়ে বলতে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে। গত তিন বছর আমরা ঘোষণা দিয়ে বর্জ্য পরিষ্কারে সফল হয়েছি। এবারও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করবো। কোরবানির জন্য আমরা স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। যারা বাড়ির আঙিনায় করবেন তারা বর্জ্য নিজ দায়িত্ব কর্পোরেশনের কন্টেইনারে রেখে যাবেন, পাশাপাশি কোরবানির রক্ত ধুয়ে দেবেন।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, ঢাকা মহানগরে বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার সময় সুষ্ঠুভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবে নাগরিকগণ যাতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে নির্বিঘ্নে পবিত্র ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে পারে সে লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থপনা কার্যক্রম
এ বছর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় দুই লাখ ৩২ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হবে, যা গত বছরের তূলনায় প্রায় ১১ হাজার বেশি। কোরবানির পশু জবাই করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এ বছর ৫৪৯টি স্থান নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ১৮৩টি স্থানে নগরবাসীকে কোরবানি দেয়ার জন্য প্যান্ডেলসহ বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া কোরবানি করা যাবে এরকম ৩৫৬টি স্থান চিহ্নিত করা আছে।

প্রসঙ্গত, রাস্তার উপর কিংবা ড্রেনের পাশে কোরবানি না করার জন্য বিশেষ সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোরবানির জন্য সর্বমোট ৮০০ জন ইমাম ও ৫০০ জন মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য তিন লাখ ৬৫ হাজার লিফলেট বিতরণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং, প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে নামাজের পরে ও জুমার খুতবার সময় কোরবানি পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণ বিষয়ে মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়েছে।

ঈদের দিন হতে জবাইকৃত কোরবানির পশুর বর্জ্য তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ এবং কোরবানির পশুর হাটসমূহ দ্রুত পরিষ্কারের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব বর্জ্যবাহী ট্রাক, ভারী যন্ত্রপাতি, ওয়াটার বাউজারের পাশাপাশি আউটসোর্সিং হতে অতিরিক্ত ট্রাক নিয়োজিত করা হবে। ঈদ উপলক্ষে বর্জ্য পরিবহন সক্ষমতা কমপক্ষে ১০ হাজার টনে উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঈদের পূর্বের দিন থেকে ঈদের পরবর্তী দুইদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য বর্জ্যবাহী ট্রাক ১৫০টি, পে-লোডার ৫টি, হুইল ডোজার ৩টি, বেকহো লোডার ৪টি, স্কিপ লোডার ৪টি, ডাম্প ট্রাক ১৯টি, পানির গাড়ি ১১টি, ট্রাক (আউট সোর্সিং) ৮০টি নিয়োজিত থাকবে।

কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্বারা যাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে পশু জবাইয়ের স্থানে ১১টি ওয়াটার বাউজার দ্বারা তরল জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রে-করণের ব্যবস্থা এবং বর্জ্য ব্যাগ, ব্লিচিং পাউডারসহ অন্যান্য পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যবহৃত উপকরণ সম্মানিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ব্যাগ চার লাখ, ব্লিচিং পাউডার ৪০ হাজার কেজি, তরল জীবাণুনাশক এক হাজার লিটার, ফিনাইল ২০০ লিটার।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থপনা কার্যক্রম
এবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। কোরবানির বর্জ্যগুলোও যেন দ্রুত পরিষ্কার করা হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএসসিসি। এছাড়া ৫২০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করবে এসময়। পরিচ্ছন্নতা বিভাগে সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, গত তিন বছর আমরা ঘোষণা দিয়ে বর্জ্য পরিষ্কারে সফল হয়েছি। এবারও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করবো। কোরবানির জন্য আমরা স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। যারা বাড়ির আঙিনায় করবেন তারা বর্জ্যগুলো নিজ দায়িত্ব কর্পোরেশনের কন্টিনারে রেখে যাবেন, পাশাপাশি কোরবানিরর রক্ত ধুয়ে দিবেন। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে কোরবানি করতে একটু অপেক্ষা করবেন। যদি কোনো নাগরিকের বাসার সামনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য পরিষ্কার না হয়, তাহলে হটলাইনে (০৯৬১১০০০৯৯৯) ফোন করার অনুরোধও জানান মেয়র।

কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে হটলাইন
দ্রুত বর্জ্য অপসারণ কোথাও না হলে হট নম্বরে কল করতে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। এই নম্বরগুলো ওয়েবসাইট ও লিফলেটের মাধ্যমে জনসাধারণকে জানানো হয়েছে। আঞ্চলিক কার্যালয়, অঞ্চল-৩ (মহাখালী)-এ অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর ৯৮৩০৯৩৬। তাছাড়া ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও ৩৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের অফিস কন্ট্রোল রুম হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও এ সংক্রান্ত সহযোগিতার জন্য কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম ছাড়াও নিম্নলিখিত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

অঞ্চল-১ (উত্তরা) ০১৭১৭১০২০২৫; অঞ্চল-২ (মিরপুর) ০১৭১১৩১৩২৮৯; অঞ্চল-৩ (মহাখালী) ০১৯২৩১১৩৬৩৬; অঞ্চল-৪ (মিরপুর) ০১৭৩৩৮৯৫৫৩২; অঞ্চল-৫ (কারওয়ান বাজার) ০১৭১১৫৭৭৪৭৪।

এএস/বিএ