মুখরিত চিড়িয়াখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৮

ব্যস্ততা ভুলে ঈদের ছুটিতে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে উপচেপড়া ভিড়। তীব্র গরম আর রোদ উপেক্ষা করে পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে এখন বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে মেতে উঠেছেন ঈদ আনন্দে।

শুক্রবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় চিড়িয়াখানার সামনে দেখা যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। প্রথম দেখাতেই বোঝা যাবে বিনোদন প্রেমীদের ঢল নেমেছে চিড়িয়াখানায়। শুধু রাজধানী নয় রাজধানীর আশেপাশের এলাকা থেকেও এসেছেন প্রচুর দর্শনার্থী। সব মিলিয়ে ঈদুল আজহার আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র চিড়িয়াখানায়।

এখানে সকাল থেকেই পাল্লাা দিয়ে ভিড়ও বেড়েছে। চিড়িয়াখানায় প্রবেশের প্রতিটি টিকিট কাউন্টারের সামনে ছিল উপচেপড়া ভিড়।

Zoo-2

চিড়িয়াখানার ভেতরে একবার বানরের খাঁচার সামনে থেকে হরিণের খাঁচা, আবার বাঘের খাঁচার সামনে দৌঁড়ে উচ্ছ্বাসিত হচ্ছিল ছয় বছরের স্বপ্নীল আক্তার। এসেছে মা-বাবার সঙ্গে। বাঘ দেখে শিহরিত হয়ে বাবাকে বলছে, ' বাবা কত্ত বড় বাঘ'! এটাই তার প্রথম চিড়িয়াখানায় আসা।

স্বপ্নীলের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, পেশাগত কারণে এবার ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে পারিনি। তাই ছোট বাচ্চাকে নিয়ে ঈদের বাড়তি বিনোদনের জন্য চিড়িয়াখানায় এসেছি। চিড়িয়াখানায় মানুষের এত ভিড় জীবনে দেখিনি।

Zoo-3

ঈদের তৃতীয় দিনে জাতীয় চিড়িয়াখানায় পশু-পাখি দেখতে দর্শনার্থীরা এ খাঁচা ও খাঁচা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দুপুরের পর থেকেই ভিড় আরও বাড়তে থাকে। তাদের কেউ প্রাণিকে খাবার ছুঁড়ে দিচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত সেলফি তোলায়। অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে অনেকটা বিরক্ত প্রাণিরা। তাই বেশিরভাগ সময়ই প্রাণিরা খাঁচার ভিতরে গিয়ে থেকেছে।

বাঘ, সিংহ, বানর, সাপ, হনুমান, জিরাফ, চিত্রা হরিণ, জলহস্তি, বানরসহ প্রতিটা খাঁচার সামনেই রয়েছে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়।

Zoo-4

দর্শনার্থী বিলকিস খাতুন দুই ছেলেকে নিয়ে এসেছেন সাভার থেকে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে ছোট বাচ্চাদের চিড়িয়াখানা দেখাতে এনেছি। কিন্তু মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ে সব খাঁচার সামনে ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া অনেক খাঁচার সামনেই প্রকট দুর্গন্ধ। এগুলো মনে হয় ভালো করে পরিষ্কারও করা হয় না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কত দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চিড়িয়াখানায় এসেছে। ক্ষুধার্ত এসব মানুষের জন্য ভালো মানের কোনো খাবারের ব্যবস্থা নেই এখানে। এ ছাড়া বাহিরে যেসব দোকান আছে সেগুলোতে গলা কাটা দাম নেয়া হচ্ছে, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়গুলোতে নজর দেয়া।

Zoo-1

এদিকে চিড়িয়াখানের প্রবেশের টিকিট কাউন্টারে কর্মরত দিলু মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ প্রায় লাখ খানেক লোকের সমাগম হয়েছে। দুপুরের পর থেকে মানুষের ভিড় বেড়েছে। টিকিট বিক্রি ও তা চেক করে ভিতরে দর্শনার্থী প্রবেশ করাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চিড়িয়াখানার কিউরেটর এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, ঈদে বিনোদন প্রেমীদের উপচেপড়া ভিড় হয়, যে কারণে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি। ঈদের সময় প্রায় লাখ খানেক দর্শনার্থীর আগমন হয়। চিড়িয়াখানার ভিতরে ১১টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। সার্বক্ষণিক ২৬টি মাইকে নিয়ম-শৃঙ্খলার বিষয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় দেড় শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োজিত আছেন।

Zoo-5

চিড়িয়াখানায় কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দর্শনাথীদের সব সুবিধা নিশ্চিতে তারা সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পুরো সীমানাজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে।

এএস/এএইচ/পিআর