ভিড়েও আনন্দে শিশুরা

মুহাম্মদ ফজলুল হক
মুহাম্মদ ফজলুল হক মুহাম্মদ ফজলুল হক , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৮
ছবি : বিপ্লব দিক্ষীৎ

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্লাটফর্মে পৌঁছাতে পেরেছে সোনামনি তাসফিয়া। রেলগাড়ি আসায় পেছনের লম্বা লাইনে যাত্রীদের সবার আগে উঠবে সে। খুব ভিড়েও বিরক্তি নেই তার, বরং অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকাটাও উপভোগ করছে তাসফিয়া।

পাঁচ বছরের শিশু তাসফিয়া মা শ্যামলী আক্তারের সঙ্গে এসেছে বনশ্রী থেকে, সঙ্গে ছোট ভাই তাসকিন। নতুন জামা পরে আনন্দ উপভোগের জন্য ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শিশুপার্কে এসেছেন তারা।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দর্শনার্থীর প্রবেশ রেলগাড়িতে ওঠার লাইন কয়েক দফা ছাড়িয়ে গেছে বহুদূর। শত শত শিশু ও অভিভাবক তখন লাইনে আনন্দের অপেক্ষায়।

Park1

রেলগাড়িতে ওঠার আগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পাঁচ বছরের শিশু তাসফিয়া জানায়, ঝকঝকা ট্রেন চলবে, এটা বেশ মজা লাগবে। তবে, ট্রেনে চড়ার পর দোলনা ও ম্যাজিক বোটেও উঠবে তাসফিয়ারা।

শুধু রেলেই নয়, শিশু পার্কের উড়োজাহাজ, দোলনা, লম্পজম্পসহ ১১টি রাইডের প্রত্যেকটির সামনে দেখা গেছে শিশুদের নিয়ে শত শত বাবা-মার অপেক্ষা। টিকিট কাউন্টারের পর প্রত্যেক রাইডে ওঠার জন্য ১০ টাকার আলাদা করে টিকিট কাটতে হবে। প্রবেশের টিকিট কাউন্টারসহ অন্যান্য রাইডের কাউন্টারের সামনেও ব্যাপক ভিড়। মানুষের পদচারণায় মুখরিত শিশুপার্ক।

Park5

শিশুদের জন্য আরেকটি আকর্ষণীয় রাইড ‘লম্ফ ঝম্ফ’। এই রাইডটির সামনেও দীর্ঘ লাইন। রাইড থেকে নেমে সাড়ে সাত বছরের নাফিজা জানায়, অনেক ভালো লেগেছে। লম্ফ ঝম্ফ করতে আনন্দ পেয়েছি। তবে মাত্র তিন মিনিটের লম্ফ ঝম্ফ করে বিরক্তিও ছিল তার চোখেমুখে।

কল্যাণপুর থেকে আসা নফিজার মা মারজিয়া জানান, ব্যস্ততার কারণে ঈদের দিন আসতে পারিনি সন্তানদের নিয়ে। ঈদের পরের দিনও মেহমান ব্যস্ততা থাকায় সময় করে বাচ্চাদের নিয়ে আসা।

রাজধানীর যানজট আর তীব্র। যন্ত্রণার শহরে চার দেয়ালে বন্দি শিশুরা খানিক বিনোদনের সুযোগ পেয়ে যেন উল্লসিত ছিলো সব শিশুরা। পার্কের ভেতরে যে দিকেই চোখ যায় হাসি আর আনন্দ ভরা শিশুর মুখ।

Park3

অন্যান্য রাইডের মতো ম্যাজিক বোটের সামনেও দেখা গেছে শিশুদের নিয়ে মায়েদের অপেক্ষা করতে। রাইডে চড়ে আনন্দ উপভোগ করে তীব্র গরমের মধ্যে কেউ কেউ বটগাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কেউবা পানি পান করছে, চকলেট আইসক্রিম ফুচকা খেয়ে নিচ্ছেন।

শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান, নবযান, রোমাঞ্চ চক্র, আনন্দ ঘূর্ণি, বিস্ময় চক্র, রেলগাড়ি, লম্প ঝম্প, এফ-৬ (জঙ্গি বিমান), ঝুলন্ত চেয়ার, ম্যাজিক বোটে উঠে আনন্দ উপভোগ করছে বাচ্চারা।

পার্কের ম্যানেজার মো. নুরুজ্জামান বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে দর্শনার্থীদের চাপ বেশি থাকে। তার ওপর আজ আবার শুক্রবার। তাই আশা করছি ৪০ থেকে ৫০ হাজার হবে। তবে, সঠিক হিসাব বলা যাবে আগামীকাল।

Park7

রাত ৮টা পর্যন্ত শিশু পার্কের প্রবেশদ্বার (গেট) খোলা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবেশ করা দর্শনার্থীদের বের হতে রাত ১০টা বেজে যাবে।

দর্শনার্থীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াও শিশু পার্কের সামনে পুলিশ টহলে রয়েছে বলেও জানান নুরুজ্জামান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে পরিচালিত শিশু পার্কের চাপ সামলাতে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন নতুন রাইড চালু করা হবে। শিশুদের বিনোদনের জন্য অন্যতম স্থান হয়ে উঠবে এই শিশুপার্ক।

Park4

অন্যদিকে শিশু পার্ক ছাড়াও পাশের ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং রমনা পার্কেও দুপুরের পর বিকেলে ঢল নামে তরুণ-তরুণীদের। এছাড়াও টিএসসি এলাকায় সকাল থেকেই দেখা যায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সীদের।

শাহবাগ এলাকার ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিমের দোকানে বেচাকেনাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

শুক্রবার সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় শিশু বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শাহবাগে অবস্থিত শিশুপার্কে। দিনভর ভিড় থাকলেও তিনটার পর দেখা যায় অভাবনীয় চিত্র। পার্কের ভেতরে কথা হয় ছটফটে শিশু আরিয়ানের মা মেহের নিগারের সঙ্গে। বলেন, এখানে এসে বাচ্চাদের ভালো লাগার কথা। সঙ্গে প্রবেশদ্বারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করে ঢোকার কথাও জানান তিনি।

এফএইচ/এমআরএম/পিআর