বাড়তি চাপে প্রাণিকূলের হাঁসফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৮

ঈদে বাড়তি চাপ ও তীব্র গরমে মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণিকূলের হাঁসফাঁস অবস্থা। চতুর্থ দিনেও প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। এদিন হকারদের দৌরাত্ম্য ছিলো চোখে পড়ার মতো।

শনিবার চিড়িয়াখানায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিনোদনপ্রেমীরা চিড়িয়াখানা দেখতে পরিবার, পরিজন নিয়ে এসেছেন। বাচ্চাদের আনন্দ দিতে অনেকে দুধের শিশুকেও সঙ্গে এনেছেন।

zoo-park

টিকিট কেনার জন্য রয়েছে লম্বা লাইন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর টিকিট নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে সবাইকে। তবে প্রচণ্ড গরমে শিশু-বড় সবারই কাহিল অবস্থা, গরমে বাড়তি মানুষের চাপে খাঁচার মধ্যে বন্দি থাকা প্রাণিদেরও হাঁসফাঁস অবস্থা।

বহু প্রাণিকেই নীরবে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণির নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে ঢুকে ছবি তুলছে, খাবার দিচ্ছে, কেউবা আবার নানাভাবে বিরক্ত করে যাচ্ছে ওদের। একজনকে দেখে আরেকজন উৎসাহী হয়ে সেও এগিয়ে যাচ্ছে।

zoo-park

দেখা গেছে, ঈদের ৪র্থ দিন সকাল থেকে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে শুরু করেন। স্বল্পমূল্যে (৩০টাকা) প্রবেশমূল্য হওয়ায় ছোট-বড়, বন্ধু-বান্ধবসহ দল বেঁধে মানুষ চিড়িয়াখায় ঘুরতে এসেছেন।

১৮৭ একরজুড়ে চিড়িয়াখানা ঘুরে অনেকে ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে বা ছায়াযুক্ত কোন স্থান পেলেই বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। অনেকে আবার ক্লান্ত হয়ে ভেতরের নির্ধারিত রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফেটরিয়ায় বসে খাচ্ছেন। চিড়িয়াখানার ভেতরে হকার নিষিদ্ধ হলেও হরহামেশায় হকারদের অবাধ ঘোরাফেরা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থী ঈদ বিনোদনে ঘুরতে আসেন বলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেন।

zoo-park

তিন ছেলে, স্ত্রী নিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে এসেছেন হাসিব বিন তালাস। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, দিনে দিনে চিড়িয়াখানায় প্রাণি শূন্য হয়ে যাচ্ছে। অনেক খাঁচায় প্রাণি নেই। একই প্রাণি বারবার এসে দেখতে হচ্ছে। অবহেলায় সম্প্রতি আফ্রিকার একটি সাদা সিংহ মারা গেছে। জাতীয় চিড়িয়াখানা সেই সেকেলেই রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন।

এখানে হকারদের আনাগোনার বিষয়ে জানতে চাইলে কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, অন্যান্য ঈদের চাইতে এবার অনেক ভালো প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। হকার ও সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভেতরে ১১টি মনিটরিং টিম নিয়োজিত রয়েছে। দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাহিরের ১৫ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও ২৬টি মাইকে নিয়ম-শৃঙ্খলার বিষয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে।

zoo-park

তিনি বলেন, ঈদের চতুর্থ দিনে ৮০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। ফলে মানুষকে নজরদারি করা সম্ভব হয় না। তারা যদি সচেতন না হয় তবে শৃঙ্খলা বজায় থাকে না। এ কারণে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রবেশ করছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এমন পরিস্থিতি দেখলে তাদের সরিয়ে দিচ্ছেন। তবে হকার প্রবেশের বিষয়টি সত্য নয় বলেও তিনি দাবি করেছেন।

এমএইচএম/এমআরএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :