আসছে মানুষ, ভরছে ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০১৮

ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরায় ফাঁকা হয়েছিল ঢাকা। ছুটি শেষ, আজ রোববার (২৬ আগস্ট) থেকে আবারও খুলেছে ব্যাংক-বিমা, অফিস-আদালত। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছেন মানুষ। চেনা রূপে ফিরছে ব্যস্ত নগরী ঢাকা।

গতকাল শনিবার ছিল ঈদের ছুটির শেষ দিন। টানা পাঁচদিন ছুটির পর আজ প্রথম কর্মদিবস। ঈদে গ্রামের বাড়ি ছুটে যাওয়া লাখো মানুষ আবারও ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীতে। ঈদের পঞ্চমদিন রোববার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কমলাপুর রেল স্টেশনে সরজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রীদের ভিড়। আসনধারী যাত্রীর পাশাপাশি প্রায় সমানসংখ্যক দাঁড়ানো যাত্রীও ফিরছে এসব ট্রেনে।

Komolapur

রোববার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৬টি ট্রেন বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে তিনটি ট্রেন বিলম্বে এসেছে। ট্রেনগুলো হলো- রাজশাহীর ধুমকেতু এক্সপ্রেস ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে আসার কথা থাকলেও কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট। খুলনার সুন্দরবন এক্সপ্রেস ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আসার কথা থাকলেও কমলাপুর স্টেশনে এসে পৌঁছায় সকাল ৮টা ৩০ মিনিট এবং লালমনির থেকে ছেড়ে আশা লালমনির ঈদ স্পেশাল দুই ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় পৌঁছায়।

southeast

কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরা রায়হান জানান, শিডিউল ঠিক ছিল তবে টিকিট পেতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ট্রেনের ভেতরে বাজে অবস্থা। অনেকে দাঁড়িয়ে এসেছেন। ব্যাগ মালামাল নিয়ে খুব কষ্ট হয়েছে। তবে যত সমস্যাই হোক তারপরও ঢাকায় এসেছি এটাই বড় কথা।

Komolapur

ঢাকায় ফেরা রাজশাহীর যাত্রী শুভ বলেন, বাবা-মার সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে গিয়েছিলাম। ঈদ উদযাপন শেষে জীবিকার জন্য ঢাকায় আসতে হবে তাই প্রিয়জনদের ছেড়ে বাধ্য হয়ে আসলাম। ট্রেনে ভিড় ছিল। অনেকে দাঁড়িয়ে এসেছেন। ঈদের সময় ভিড় সব সময়ই থাকে। তবে ট্রেনটি দেরিতে ছেড়েছে, আসতে ৪ ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। এতে করে খুব সমস্যা হয়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ঈদের পঞ্চম দিন (২৬ আগস্ট, রোববার) ট্রেনের শিডিউলে বড় কোনো বিপর্যয় হয়নি। আজকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৬৮টি ট্রেন ঢাকায় আসবে এবং ৬৭টি ট্রেন ঢাকা ছাড়বে। ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় মাল ওঠানামায় সময় বেশি লাগে। এছাড়া যাত্রী চাপের কারণে নির্ধারিত গতিতে ট্রেন চালাতে পারে না।

Komolapur

এদিকে শুধু ট্রেনে নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসে সড়ক পথেও ফিরছে হাজারও মানুষ। রাজধানীর গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় রোববার সকালে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চল থেকে প্রচুর গাড়ি আসছে। সব গাড়িতেই উপচে পড়া ভিড়। অনেকে ঢাকায় এসে সরাসরি রোববারের অফিস ধরতে রাতের বাসে ভোরে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

যাত্রী, গাড়ির চালক ও চালকের সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে মূলত গতকাল শনিবার থেকেই। বেসরকারি চাকরিজীবীদের অফিস শুরু হয়েছে শনিবার থেকে। তবে শনিবারের চেয়ে আজ রোববারে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় বেশি।

southeast

কথা হয় সোহাগ পরিবহনের হেলপার আবদুল মোতালেবের সঙ্গে। তিনি জানান, রাস্তায় জ্যাম নেই। তাই বেশি ট্রিপ মারা যাচ্ছে। টিকিট আগেই বিক্রি করা। এ জন্য যাত্রী নিয়েও কোনো টেনশন নেই। তবে শনিবারের চেয়ে রোববারে যাত্রীর চাপ বেশি।

রংপুর থেকে আসা সুভাষ দে বলেন, অফিস আজ (রোববার) থেকে শুরু। আসতে একটু লেট হলো, তবে অফিস ধরতে পারব। বউ বাচ্চা আরও দু’দিন পরে আসবে। এ জন্য এসেই অফিস ধরার টার্গেট ছিল। শ্যামলির বাসা থেকে ফ্রেশ হয়ে বাংলামোটর অফিস যাব।

southeast

রাস্তায় জ্যাম না থাকলেও ঢাকায় ফিরতে বাড়তি খরচ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন যাত্রী। সোমা নামের এক যাত্রী বলেন, কিছু মালামাল আছে, এগুলো গাড়িতে তুলতে আলাদা পয়সা দিতে হয়েছে। টিকিটের দামও বেশি। এখন রিকসা ভাড়াও বেশি চাচ্ছে।

গাবতলীতে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা হাজী ডিলাক্সের সুপারভাইজার মহিউদ্দীন বলেন, যাত্রীর তুলনায় লাগেজ বেশি। অনেকে মাংস নিয়ে বক্সে তুলছেন। পরে রক্ত পরিষ্কার করতে বেগ পেতে হয়। ফলে ঈদ বকশিস হিসাবে যাত্রীরা যা দিচ্ছেন, তাই হেলপাররা নিচ্ছে।

এসআই/এমএ/আরএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :