সংসদে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দায়ী অত্যাধুনিক জিআইএস সিস্টেম!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সংসদে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় তদন্ত কমিটিগুলো নিজেরা কোনো দায় না নিয়ে দুষছেন সংসদ ভবনের বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী অত্যাধুনিক জিআইএস সিস্টেমকে। তাদের দাবি কারিগরি সমস্যা হওয়ায় এটি হঠাৎ ট্রিপ করে। ফলে সংসদ থেকে বিদ্যুৎ চলে যায়।

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টায় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎবিভ্রাট ঘটে। এ সময় সংসদ ভবনের অধিকাংশ ব্লক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। সংসদ অধিবেশন ৫টায় শুরুর কথা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ১০ মিনিট পর জেনারেটর চালিয়ে বৈঠক শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে অন্যান্য কার্যসূচি স্থগিত করা হয়। পরে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সংসদ ভবনের বিভিন্ন ব্লকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব ফয়জুল আমীনকে প্রধান করে বিদ্যুৎ বিভাগ একটি ও ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন) এ টি এম হারুনুর রশীদকে প্রধান করে চার সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই বিভাগের পিজিসিবি ও পিডিবিও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। এদিকে একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে পৃথক আরেকটি তদন্ত গঠন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সবগুলো কমিটিই ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এ ঘটনায় গঠিত পাঁচটি তদন্ত কমিটিই নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। অবশ্য পিডিবি, ডিপিডিসিসহ বিদ্যুৎ বিভাগের চারটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গণপূর্তের কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গণপূর্তের তদন্ত কমিটি নিজেদের কোনো দোষ খুঁজে পায়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের ওপরই দায় চাপিয়েছেন তারা।

বিদ্যুৎ ও গণপূর্ত বিভাগের প্রতিবেদন সূত্র জানায়, মূলত সংসদের অত্যাধুনিক জিআইএস প্রযুক্তিতে চলা বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী মেশিনটি ট্রিপ করাতেই এ সমস্যা হয়েছে। কারণ সংসদে চারটি বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ রয়েছে। একটিতে সমস্যা দেখা দিলে অন্যটি দিয়ে চলবে। একসঙ্গে চার লাইনে সমস্যা হতে পারে না। বাংলাদেশি প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত কর্তব্যরতরা হয় এটির ব্যবহার জানেন না নতুবা মেশিনে নিম্নমানের যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয়েছে। তা না হলে চীন থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করে আনা মেশিনে মাত্র এক বছরেই এমন সমস্যা দেখা দিত না।

ডিপিডিসির তদন্ত রিপোর্টে ছয়টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- আন্ডার ভোল্টেজ রিলে সেটিং যথাযথ করা, পিডব্লিউডি উপ কেন্দ্রের ১১ কিলোভোল্ট ফিডার রিলে সংযোগ সক্ষম করা, লোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জেনারেটর বসানো।

জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদফতর (পিডব্লিউডি) ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের (ডিপিডিসি) মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেয়ে থাকে। ডিপিডিসি আমিনবাজারের পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) সঞ্চালন লাইন থেকে সরাসরি সংসদে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পিজিসিবি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ডিপিডিসির কাছ পৌঁছে দেয়। আর সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব পালন করে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) উপকেন্দ্র।

এ বিষয়ে ডিপিডিসি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অপারেশন) এ টি এম হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ কোনোভাবেই দায়ী নয়। পিডিবি কিংবা ডিপিডিসির সামান্যতম ক্রুটিও ছিল না। সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পূর্ত কর্মকর্তরাই এটি ভালো বলতে পারবেন। জিআইএস সিস্টেমে পরিচালিত মেশিনে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়ায় এমনটি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নতুন জিআইএস সিস্টেম পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক্যাল (ই/এম) শাখার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে সিভিলের প্রকৌশলীদের।

সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম মেশিন ট্রিপ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য এ সমস্যা হয়েছে। বিদ্যুতের লো ভোল্টেজ হওয়ায় সরবরাহ ঠিক রাখা যায়নি। এরপরও আমরা মেশিন দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেশিনটি ট্রিপ করায় সেটি সম্ভব হয়নি।’

বিদেশি এ প্রযুক্তিটি সম্পর্কে কম ধারণার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

এইচএস/এএইচ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :