শিশু ও নারী পাচার মোকাবিলায় প্রয়োজন অভিন্ন দক্ষ ব্যবস্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পাচারের মতো একটি মানবতাবিরোধী অপরাধকে মোকাবিলা করতে হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশল এবং কর্মপরিকল্পনা নেয়ার ক্ষেত্রে সম্পদ এবং সামর্থ্যের অপ্রতুলতা রয়েছে। যে কারণে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি দরকার জনসচেতনতা বাড়ানো। যথাযথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমেই সম্ভব শিশু ও নারী পাচার মোকাবিলা।

রোববার দুপুরে রাজধানীর ডিআরইউয়ের সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘শিশু ও নারী পাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্নতকরণে সুশীল সমাজের আহ্বান’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি।

আন্তঃসীমান্ত পাচারের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রায় লক্ষাধিক নারী ও শিশু পাচারের শিকার হয়েছে। প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় নারী ও শিশু ভারতে পাচার হয়ে থাকে। ভারতের সাথে বাংলাদেশ বিস্তৃত স্থল ও জল সীমান্ত থাকার কারণে খুব সহজেই নানা কৌশলে পাচারকারী চক্র নারী ও শিশুদের পাচার করছে। পাচার হওয়া অধিকাংশের ভাগ্যে জুটছে নির্মম পরিণতি। ইদানিং নারী ও শিশুর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তঃসীমান্ত উভয়ক্ষেত্রেই ‘শ্রম-শোষণ’ এর উদ্দেশ্যে পুরুষও পাচার হচ্ছে।

পাচার রোধে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে ইনসিডিন বাংলাদেশের ম্যানেজার (পলিসি অ্যান্ড লিগ্যাল সাপোর্ট) অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২’, বিধিমালা ২০১৭’ প্রণয়ন করেছে সরকার। যেখানে ‘জাতীয় মানব পাচার প্রতিরোধ তহবিল’ ও মানবপাচার অপরাধ দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। পাশাপাশি সরকার নিয়মিত মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে চতুর্থ ধাপে ২০১৮-২০২২ সাল পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের সাথে পাচার মোকাবিলায় একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। ২০১৫ সালে আন্তঃসীমান্ত মানব পাচার ও পতিতাবৃত্তি সীমিতকরণের উদ্দেশ্যে মানবপাচার বিশেষত নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে বিশেষ উদ্ধারও প্রত্যাবর্তন ও প্রত্যাবাসনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও সাধারণ পরিচালনা পদ্ধতিসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গঠন করা হয়েছে আরআরআরআই টাস্কফোর্স।

তবে সর্বশেষ সীমান্ত সম্মেলনে ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন পাচার প্রতিরোধ ও দমনে সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমের সমন্বয় জরুরি বলে অভিমত উঠে এসেছে। সে অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মানব ও শিশু পাচার নিয়ে কাজ করা দরকার। সে লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন থেকে ৮টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সুপারিশগুলো হলো-

১. পাচারকৃতদের উদ্ধার প্রত্যাবর্তন বা প্রত্যাবাসনের সাধারণ পরিচালনা পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা ও শিশুদের জন্য বিশেষ বিধানের ব্যবস্থা

২.সাধারণ পরিচালনা পদ্ধতি(এসওপি) আওতায় প্রত্যাবর্তন কাজে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করা এবং সীমান্ত বাহিনীকে কাজে লাগানো

৩. পাচার মোকাবিলায় ভারত বাংলাদেশকে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সামর্থ্য বৃদ্ধি করা

৪. রাষ্ট্র কর্তৃক সচেতনতামূলক কার্যক্রম শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পর্যাপ্ত অর্থের যোগান ও সরকারি সংস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করা

৫. পাচারের শিকার শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তহবিল গঠন

৬. পাচার সংক্রান্ত তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলা এবং ডাটাবেজ তৈরি

৭. পাচারকৃতদের উদ্ধার প্রত্যাবর্তন বা প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনে বেসরকারি সংগঠনগুলোর কাজে সরকারি সহযোগিতা সম্প্রসারিত করা

৮. পাচার প্রতিরোধে কর্মরত ভারত ও বাংলাদেশের সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকরী কেন্দ্রীয় যোগাযোগ গড়ে তোলা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিপিডির সমন্বয়কারী শরিফুল্লাহ রিয়াজ ও সোস্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এনহেন্সমেন্ট প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী জাহিদ হোসেন।

জেইউ/এনএফ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :