যৌতুকের মিথ্যা মামলার শাস্তি ৫ বছর রেখে আইন পাস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যৌতুক দাবি, নেয়া বা দেয়ার পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে সহায়তার অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে সংসদে ‘যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৮’ পাস হয়েছে।

একই সঙ্গে আইনে যৌতুকের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করলেও পাঁচ বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এর আগে বিলের ওপর আনীত বছাই কমিটিতে প্রেরণ, জনমত যাচাই ও সংশোধনীসমূহ কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিলে এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ অনুসারে। এ ছাড়া আইনে অপরাধ জামিন অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও একইসঙ্গে আপসযোগ্য হিসেবেও বিবেচিত হবে বলে বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, যদি বিবাহের কোনো পক্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য পক্ষের কাছে কোনো যৌতুক দাবি করেন তা হলে এ আইনের অধীনে তা অপরাধ হবে। এ জন্য তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে কিন্তু অনূন্য এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আগে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশে জরিমানার বিধান থাকলেও জরিমানার পরিমাণ নির্ধারিত ছিল না। বিলের ৪ ধারায় বিবাহের কোনো পক্ষ যৌতুক গ্রহণ বা প্রদান করলে বা এ ক্ষেত্রে সহায়তা করলে বা কোনো চুক্তি করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। উপরোক্ত একই দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বিলের ৫ ধারায় যৌতুক সংক্রান্ত সব চুক্তিকে আইনের চোখে অকার্যকর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর থেকে সর্বনিম্ন এক বছরের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিলের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকোনো ব্যক্তির ক্ষতি সাধানের অভিপ্রায়ে অভিযোগ করার আইনানুগ কারণ জেনেও মামলা বা অভিযোগ করেন বা করান তাহলে তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আগের আইনে যৌতুকের মিথ্যা মামলার জন্য কোনো শাস্তির বিধান ছিল না। এ আইন বলে ডুওয়ারি প্রোহিবিটেশন অ্যাক্ট ১৯৮০ রহিত করা হয়। তবে উক্ত আইনের অধীন চলমান মামলাসমূহ পরিচালনার ক্ষেত্রে আগের আইন বহাল হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিলের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যৌতুক প্রথা এক ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। এ কারণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, পরিকল্পনা প্রণয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্থ হয়। যৌতুক প্রথা অবসানের লক্ষ্যে ১৯৮০ সালের অধ্যাদেশের আলোকে নতুন আইন প্রণয়নে বিলটি আনা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণীত বিল হয়েছে। অপরাধ বিচার আপিল ও তদন্তে কোড অব সিভিল প্রসিডিউর ১৮৯৮-এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে।

এইচএস/এএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :