সাংবাদিকতা পেশা জনগণের কল্যাণে লাগাবেন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশা দেশের বৃহৎ স্বার্থে এবং জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাবেন। গণমাধ্যমের কর্মী হয়ে এমন কোনো কাজ করবেন না যেন দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয়। আমরা সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কিন্তু এটাকে বালখিল্যভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং সবারই এ ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার তার কার্যালয়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে অসুস্থ, অস্বচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ উপলক্ষে এ কথা বলেন।

আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য্য, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- তথ্য সচিব আবদুল মালেক ও বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলমগীর।

এবার ১১৩ জন সাংবাদিকদের মধ্যে চেক বিতরণ করা হয়। তিন বছরে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে সাংবাদিকদের মধ্যে ১০ কোটি ৭ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-এর নির্বাচনে দিন বদলের যে অঙ্গীকার করেছিলাম, আমি মনে করি আজকে মানুষের দিন বদল হয়েছে। বাংলাদেশকে দেখার, জানার জন্য জীবনে যত রকম ঝুঁকি নেয়ার নিয়েছি এবং সুযোগ পেলে কীভাবে করবো সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছি বলেই আজকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা মহাকাশও জয় করেছি, সমুদ্র সীমানা ঠিক করেছি আবার স্থল সীমানা চুক্তির বাস্তবায়ন করেছি। যাই করেছি তার শুরুটা করে দিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই সময়ে জাতির পিতার সাড়ে ৩ বছরের শাসনে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত প্রদেশকে দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এত পরিমাণ কাজ তিনি সম্পাদন করেছেন যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার পক্ষে, বিপক্ষে মিডিয়ায় কে কি লিখলো, না লিখলো চিন্তা করি না। আমি চিন্তা করি যে কাজটা করছি সেখানে নিজের আত্মবিশ্বাসটা আছে কি-না, সঠিক করছি কি-না, নিজের আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেই আমি চলি।

গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে সাংবাদিকরা এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুস্থ জনগণের কথা, বিপন্ন জনমানুষের কথা তুলে আনেন ফলে সরকারের তাদের পাশে দাঁড়াতে সুবিধা হয়। সকলের কথা বলার এবং মত প্রকাশের অধিকার থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কথা বলার স্বাধীনতা এটা সবারই আছে। সংবাদপত্র, সাংবাদিকদের স্বাধীনতার কথায় আমরা সব সময় বিশ্বাস করি।

এফএইচএস/এমআরএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :