ফারমার্সের সাবেক এমডিসহ ৭ জনের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ফাইল ছবি

ফামার্স ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ সাত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা লেনদেন অনুসন্ধানের কারণে তাদের বিদেশ ভ্রমণে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপারকে (ইমিগ্রেশন) চিঠি দিয়েছে দুদক।

চিঠিতে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কে এম শামীম, এক্সিকিউটিভ অফিসার উম্মে সালমা সুলতানা, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুতফুল হক, সাবেক হেড অব বিজনেস ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজী সালাউদ্দিন, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়ের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সপরিবারে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছেন।’

এদিকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জিয়া উদ্দিন ছাড়া বাকি ছয় জনকে প্রধান কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল।

এ অভিযোগের অনুসন্ধানে গত ৬ মে মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামে কথিত দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের এক ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেয়ার বিষয়টির অনুসন্ধানের জন্য ওই দুজনকে তলবের কারণ দেখিয়েছিল দুদক।

দুদকের নোটিসে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ না থাকলেও পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সিনহাই যে সে ব্যক্তি, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে সে খবর আসে। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই দুজনের আইনজীবী বিচারপতি সিনহার সঙ্গে লেনদেনের কথাই বলেন।

আইনজীবীরা বলেন, এস কে সিনহার উত্তরার ছয়তলা বাড়িটি পাঁচ কাঠা জমির ওপর ছিল। এ বাড়িটি ২০১৬ সালের শুরু দিকে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শান্ত্রি রায় ছয় কোটি টাকায় কেনেন। এ সময় বায়না দলিলকালে তিনি দুই কোটি টাকা পরিশোধ করেছিলেন। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য নিরঞ্জন ও শাহজাহানের সহযোগিতা নেন। নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা শান্ত্রি রায়ের স্বামী রনজিতের চাচা। শাহজাহান রনজিতের বন্ধু।

তারা বলেন, বাড়ি কিনতে বাকি চার কোটি টাকা ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে নিরঞ্জন ও শাহজাহান দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শান্ত্রি রায় জামিনদার হন। জামিনদার হিসেবে টাঙ্গাইল ও ঢাকার আশপাশের বেশকিছু জমি বন্ধক রাখেন শান্ত্রি।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে জমির বায়না দলিল হয় এবং ওই বছরের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এস কে সিনহা সোনালী ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখার মাধ্যমে চার কোটি টাকা গ্রহণ করেন। পে-অর্ডারের পরে ২৪ নভেম্বর হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি শান্ত্রি রায়কে বুঝিয়ে দেন।

এসআই/এএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :