ব্যর্থতা থাকলেও পুলিশের ‘কমিটমেন্টে’ ঘাটতি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:২৩ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, বৃষ্টিতে হাঁটু পানিতে, রোদে পুড়ে, শুধু পানি আর খেজুর খেয়ে পুলিশ সদস্যরা রোজায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। আমাদের অনেক ব্যর্থতা থাকতে পারে কিন্তু আমাদের পরিশ্রম কিংবা কমিটমেন্টে কোনো ঘাটতি নেই। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা যে পরিশ্রম করছে তা সফল তখনই হবে যখন সবাই ট্রাফিক আইন মানবে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহনে আয়োজিত ট্রাফিক সচেতনতামূলক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অনেক ব্যর্থতা থাকলেও পুলিশের পরিশ্রম বা ইচ্ছার ঘাটতি নেই উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, সারা বিশ্বে নিয়ম হচ্ছে আটটা ঘণ্টা একটা কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ বিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা ১২ ঘণ্টা থেকে একটানা ১৮ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে থাকে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে প্রধান সমস্যা আমাদের আইন না মানার সংস্কৃতি।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আসন্ন দুর্গাপূজার পর আবারও ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, পূজার পর ১৫ দিন বা মাসব্যপী আবারও ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহনে আমরা একইসঙ্গে কাজ করবো। এ কার্যক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, তবে এটা দৃশ্যমান করার জন্য পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কমিশনার বলেন, ঈদে ৩০-৪০ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়ে যায়, তখন যানজট থাকে না। এর মানে এ শহর অতিরিক্ত মানুষের চাপ নিতে পারছে না। অপর্যাপ্ত সড়কের পাশাপাশি আমাদের সড়কে ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিকল্পনার ত্রুটি রয়েছে। এজন্য ভৌত-অবাকাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে।

সমাজের গণ্য-মান্যরা আইন না মানলে সাধারণদের কতটা দোষ দিতে পারি এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বরতরা আগে আইন মানুন। এমনকি পুলিশ সদস্যদের কেউ ট্রাফিক আইন অমান্য করলে কাউকে একবিন্দু ছাড় দেয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বুয়েটের শিক্ষক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ম তামিম বলেন, দেড় কোটি নগরবাসীর জন্য ট্রাফিক সদস্য ৫ হাজার। আনসার আরও এক হাজার। চলছে, কিন্তু আমরা সন্তুষ্ট নই। আসলে এই পরিমাণ ট্রাফিক জনবল নিয়ে সম্ভব না, আরও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল পথচারীরা। আমরা বড়রা আইন না মানলে ছোটরা কেন মানবে? আমাদের কথাই বা কেন তারা শুনবে। আইন ভাঙার প্রবণতা আজকের নয়, পুরান। যতো প্রভাবশালীই হোক না কেন, যারাই ট্রাফিক আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা নিন আমরা সহযোগিতা করবো।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, তোমরা তরুণ প্রজন্ম আজকের মুক্তিযোদ্ধা। তোমাদের ওপর অনেক দায়িত্ব। আমরা রাজাকার, পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। কিন্তু তোমাদের শত্রু স্পষ্ট নয়। সুতরাং তোমাদের দায়িত্ব বেশি কঠিন।

ডিএমপি কমিশনারের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করতে দেবেন না। আর যারা জরিমানা ও ট্রাফিক মামলা খাচ্ছেন নিজ উদ্যোগ তা প্রচার করুন। আমাদের দেশের পুলিশ সদস্যরা ট্রাফিক আইন না মানায় মামলা ও জরিমানা করেছে। এতে করে মান যাবে না বরং বাড়বে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ড. জাফর ইকবাল, জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফারুক, রিয়াজ, চলচ্চিত্র অভিনেতা আহমেদ শরীফ, জায়েদ খান, জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ, পরিবহন মালিক নেতা খন্দকার এনায়েতুল্লাহ, বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল।

অনুষ্ঠান শেষে ট্রাফিক সচেতনতায় অতিথি ও আমন্ত্রিতদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি খামারবাড়ি গোল চত্বর প্রদক্ষিণ করে।

জেইউ/এনএফ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :