জাবিতে পাখি দেখতে লাগবে টিকিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮
ফাইল ছবি

পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এখন থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শীতকালে অতিথি পাখি দেখতে গেলে দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়ে। সেই সঙ্গে সেখানকার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর সভা শেষে একথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। জাবির উন্নয়নে একটি প্রকল্প সম্পর্কে বলতে গিয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ২০ হাজার কোটি টাকার ২১টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

কামাল জানান, একনেক সভায় ২১টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে খরচ হবে প্রায় ১৯ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৭ হাজার ৩১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২ হাজার ২২৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২৩৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

ঢাকা ও খুলনা বিভাগের রাস্তা ও ব্রিজসহ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন করতে চায় সরকার। এজন্য ‘দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিব) ঋণ থেকে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। প্রকল্পের আওতায় ২৫৭ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন, ১৫৩ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ১ হাজার ৭২২ মিটার ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হবে ঢাকা বিভাগের সাভার এবং সাভার পৌরসভা, ধামরাই পৌরসভা, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, কালিয়াকৈর পৌরসভা, নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঞ্চন,তারাব, সোনারগাঁও পৌরসভা এবং রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলা, মানিকগঞ্জের মানিকগঞ্জ ও সিংগাইর পৌরসভা এবং নরসিংদী পৌরসভা। এছাড়া খুলনা বিভাগের খুলনা সিটি কর্পোরেশন, চালনা পৌরসভা, যশোর জেলার যশোর, নওয়াপাড়া ও ঝিকরগাছা পৌরসভা এবং বাগের হাট জেলার মংলা পৌরসভায়।

PM

একনেক অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার পুনর্নির্মাণ, এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৬২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযান সংগ্রহসহ আনুষাঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, খরচ ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন, খরচ ৭৭৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন প্রোগ্রাম, খরচ ১৩০ কোটি টাকা। সৌর বেস স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিটক নেটওয়ার্ক কভারেজ শক্তিশালীকরণ, খরচ ৪০৬ কোটি টাকা।

ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প : সাপোর্ট টু ঢাকা(কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশ্বে সার্ভিস লেন নির্মাণ, খরচ ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। কেরানীহাট-বান্দরবান জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, খরচ ২৩৫ কোটি টাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন, খরচ ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের ৭টি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, খরচ ১২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম, খরচ ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা।

পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সংযোগ সড়ক ও আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ, খরচ ২৫০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এস্টাবলিস্টমেন্ট অব থ্রি হ্যান্ডলুম সার্ভিস সেন্টারস ইন ডিফারেন্ট লুম ইনটেনসিভ এরিয়া প্রকল্প, খরচ ৮৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নরসিংদী এর আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ, খরচ ৬০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অবকাঠামো উন্নয়ন, খরচ ৬৯০ কোটি টাকা। গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ, খরচ ৫৯১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের চর-বাগাদী পাম্প হাউজ ও হাজিমারা রেগুলেটর পুর্নবাসন, খরচ ১১৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, খরচ ৩২১ কোটি ২২ লাখ টাকা। মহিষ উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়), খরচ ১৬২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কার্যক্রম জরুরি সহায়তা, খরচ ৫৫৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এমএ/জেএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :