ড. কামালের ‘ঐক্যকে’ ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্র বলছেন এমপিরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৪ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৮

ড. কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রের জোট বলে অভিহিত করেছেন সংসদ সদস্যরা। খুনি ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে এ জোট করায় কামাল হোসেনের তীব্র সমালোচনাও করেন তারা। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের আদর্শ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সরকারদলীয় এই সদস্যরা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তারা।

মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিকভাবে ইন্টার প্রেসসার্ভিস নিউজ এজেন্সি কর্তৃক ‘হিউম্যানটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন কর্তৃক ‘স্পেশাল ডিসটিংশান অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ’ পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাধারণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরে ভোটে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি পাস হয়।

হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার প্রস্তাবটি উত্থাপন করলে তার সমর্থনে প্রায় ৪২ জন এমপি-মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও প্রশংসা করে বক্তব্য দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ড. কামাল বলেছেন তিনি তারেক জিয়ার সঙ্গে ঐক্য করেন নাই। যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক জিয়া সে দলের সঙ্গে ঐক্যের মানে কী? তারেক জিয়া খুনের আসামি, গ্রেনেড হামলার আসামি তার সঙ্গে ঐক্যের মধ্যদিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, ড. কামাল হোসেন খুনিদের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। যা নিন্দনীয়। যারা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিচ্ছেন তাদের আশা কখনো পূর্ণ হবে না। পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার দাবি নাকচ করে তিনি বলেন, সংসদও থাকবে। ইসি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে নির্বাচন পরিচালনা করবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন আমাদের দেশের নেতা নন, তিনি এখন বিশ্বের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে একজন। তার সমস্ত ধ্যান-ধারণা জনকল্যাণে উৎসর্গীকৃত। আমরা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও এখনো তিন কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে কূটনীতিতে সফলতা অর্জন করে বিশ্বে সমর্থন সৃষ্টি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তিনি বলেন, সংসদ ভাঙবে কেন। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের ধুয়ো তুলে তারা ২০১৪ সালের মতো আগুনসন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়। তারা এখন নতুন নতুন মানুষ নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র সৃষ্টি করতে চাইছে। তা সফল হবে না।

বেগম মতিয়া চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি রাজনৈতিক নানা ধরনের খেলাধুলা। ড. কামালের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের ঐক্যজোট কোনো কাজে লাগবে না। জাতির সঙ্গে ভণ্ডামি করে আপনারা যে কুয়াশার জাল সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন তা কখনো সফল হবে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, জোটের এক বিজ্ঞ নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রভাশালী উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। তিনি সেই সময় দুই নেত্রীকে গ্রেফতার করার পর বলেছিলেন, আমরা চুনোপুটি নয়, রাঘব বোয়ালদের কারাগারে দেব। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। দুঃখ লাগে বিএনপি এদের সঙ্গে জোট করেছে। যে ব্যক্তি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল সেই ব্যক্তির সঙ্গে জোট করে এটা কোন ধরনের ষড়যন্ত্র।

ডা. দীপু মনি বলেন, ড. কামাল হোসেন খুনিদের সঙ্গে জোট করেছেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছে, যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে, যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পায়তারা করছে। এ জোটের তীব্র সমালোচনা করে দীপু মনি বলেন, তারা কোন রবার্টের অপেক্ষায় আছেন, যারা তাদেরকে অবৈধপথে ক্ষমতায় নিয়ে যাবে?

এমপি বাহাউদ্দীন নাসিমও বিএনপি ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের জোটকে এক অশুভ ইঙ্গিত বলে অভিহিত করেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সারা পৃথিবীতে আজ উদ্বাস্তু বাড়ছে। সেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী মায়ের মতো আচরণ করে ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে শেখ হাসিনার কূটনৈতিক চালের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ব আজ মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টি করছে, গণহত্যার জন্য দায়ী করছে। এটা শেখ হাসিনার বড় বিজয়।

ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, বিশ্ব আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবিকতার প্রতীক আর যোগ্য নেতৃত্ব বলছে আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অপরাধ, লুণ্ঠন ও ক্ষমতা অপব্যবহারকারীর নিদর্শন। তিনি আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার দাবি জানান।

এ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি আলী আশরাফ, জয়া সেনগুপ্ত, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, জাসদের মঈন উদ্দীন খান বাদল, মনিরুজ্জামান ইসলাম, বিরোধী দলের ফখরুল ইমাম, সাবিনা আক্তার তুহিন, ফজিতানুন্নেসা বাপ্পি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, পীর ফজলুর রহমান, বিএনএফের প্রেসিডেন্ট এস এম আবুল কালাম আজাদ, নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জাতীয় পার্টির মো. সেলিম উদ্দীন, এ বি তাজুল ইসলাম, কাজী রোজী, পঙ্কজ দেবনাথ, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, আবদুল মতিন খসরু, আশেক উল্লাহ রফিক প্রমুখ।

এইচএস/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :