তেজগাঁও বিমানবন্দর যেন ‘বেহাত’ না হয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৮
ফাইল ছবি

তেজগাঁও বিমানবন্দর বিমান বাহিনীরই থাকবে। এই বিমানবন্দর যেন ‘বেহাত’ না হয়, সেজন্য বিমান বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর এয়ার মুভমন্টে ফ্লাইটের নতুন ভিভিআইপি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন শেষে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা বিমান বাহিনীর, বিমান বাহিনীরই থাকবে। এই এয়ারপোর্ট কোনো দিনই বন্ধ হবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪০ এর দশকে তখনকার ব্রিটিশ সরকার তেজগাঁও বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করে। ১৯৪৫ সালে বিশ্বযুদ্ধ শেষে এটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হিসেবে চালু হয়।

১৯৮১ সালে নতুন বিমানবন্দর চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত তেজগাঁও বিমানবন্দরই ছিল দেশের প্রধান বিমানবন্দর। বর্তমানে এ বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এটুকু সতর্ক করতে চাই যে, এটার ওপর অনেকের কিন্তু শ্যেন দৃষ্টি আছে। এটা যেন বেহাত না হয়, বিমান বাহিনী এটাকে সেভাবে ব্যবহার করবে। এটার আশপাশে উঁচু উঁচু বিল্ডিং বানাতে হবে- এই চিন্তা যেন সবার মাথা থেকে চলে যায়।

বর্তমানে বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনী তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে তাদের হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষণ বিমান, জেট বিমান ও বৃহদাকার পরিবহন বিমান পরিচালনা করে থাকে। এ ছাড়া এখান থেকে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বহনের জন্য বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বারবার বিমান বাহিনীকে সতর্ক করেছি, এই জায়গা নেয়ার জন্য সবাই কিন্তু হাত বাড়িয়ে বসে আছে। আমি যতদিন ক্ষমতায় আছি, আমি দেবই না।’

এ বিমানবন্দরের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কখনও যেন এটা নিতে না পারে, সেজন্য এটার ব্যবহার বাড়াত হবে। মাঝে মাঝে এখান থেকে প্লেন চালাতে হবে। যেন সবাই জানে, এটা ব্যবহার হচ্ছে। আমি যখন থাকব না, তখন এসে নিয়ে যাবার চেষ্টা করবে।’

ঢাকার মত শহরে দ্বিতীয় একটি বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই না যে এয়ারপোর্টটা নষ্ট হোক। ঢাকা শহরে আরেকটা এয়ারপোর্ট আমাদের একান্তভাবে দরকার। যেহেতু এটা আমাদের জন্য তৈরি করা আছেই; কেন আমরা এটাকে নষ্ট করব।’

বিমান বাহিনীর জন্য আরও জায়গা দরকার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাহিনীর কলবের বৃদ্ধি করছি। আমরা ছোট দেশ। কিন্তু আমাদের কিছুই থাকবে না- এটা তো হতে পারে না। কারও দিকে তাকিয়ে তো বসে থাকব না।’

প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দরের নতুন ভিভিআইপি কমপ্লেক্স উদ্বোধন করার সময় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, তিন বাহিনী প্রধান এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কেক কাটেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

পরে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকেই হেলিকপ্টারে চড়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হন শেখ হাসিনা।

আরএম/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :